Mamata Banerjee : ‘SIR হবেই, থামানো যাবে না’—মমতার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, প্রশ্নের মুখে রাজ্য ও কমিশন!

দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। তবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার টানাপোড়েন যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দরজায় পৌঁছয়, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় কৌতূহলের কেন্দ্রে চলে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জেরেই সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। প্রথম দৃষ্টিতে বিষয়টি কারিগরি মনে হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং রাজ্য-কমিশনের সম্পর্কের সূক্ষ্ম সমীকরণ।

এই মামলার শুনানিতে বুধবার এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকে দেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে নিজের করা মামলায় সওয়াল করেন। দেশের ইতিহাসে এই ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞদের একাংশ। শুনানির সময় আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়—SIR প্রক্রিয়া বন্ধ করা যাবে না। বিচারপতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, নির্বাচন সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়া সব রাজ্যকেই মানতে হবে এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে আদালত।

শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, মোট ৮ হাজার ৫৫৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। কমিশন জানায়, তারা কেবল সংখ্যার তথ্য পেয়েছে, নামের বিস্তারিত তালিকা পায়নি। এ নিয়েই প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন—নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কেন সম্পূর্ণ তালিকা পাঠানো হয়নি? রাজ্যের জবাব ছিল, কমিশনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষাতেই দেরি হয়েছে। এই টানাপোড়েনেই আদালত জানায়, তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি চললে হলফনামা চাওয়া হতে পারে।

রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন আগে কখনও গ্রুপ-বি অফিসার চায়নি। অন্যদিকে কমিশনের আইনজীবী বলেন, প্রায় ৩০০ জন গ্রুপ-বি অফিসার প্রয়োজন হলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৮০ জন, বাকিরা গ্রুপ-সি কর্মী। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, কর্মী সংকটের কারণেই বাইরে থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছিল। ইআরও কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়—২৯৪ জন ইআরও সবাই গ্রুপ-এ অফিসার, যাঁদের মধ্যে এসডিএম ও কিছু আইএএস আধিকারিকও রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ Viral video : ভাইরাল ভিডিওতে অস্বস্তিতে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক! গ্রাহকের সঙ্গে চিৎকার-দুর্ব্যবহার, ‘ঠাকুর হু ম্যায়’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নেটদুনিয়া!

এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে আইনি লড়াইয়ে নামায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে, না হলে কমিশন একতরফা সিদ্ধান্ত নিত। সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা স্পষ্ট—SIR হবেই। এখন নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশে, যা শুধু এই মামলার নয়, ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থার দিকনির্দেশও ঠিক করে দিতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles