Judicial Officer in SIR: ডমিসাইল সার্টিফিকেট বিতর্কে নতুন মোড়, কমিশনের নির্দেশিকা কি আদালতবিরোধী? এসআইআর নিয়ে রাজ্য-কমিশন সংঘাতে শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ!

বাংলার রাজনৈতিক অন্দরে ফের চড়া সুর। বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই বিষয়টি গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের প্রাক্কালে নতুন করে শুরু হল আইনি চাপানউতোর। প্রশাসনিক স্তর থেকে বিচারব্যবস্থা— সব ক্ষেত্রেই তৈরি হয়েছে প্রশ্নের আবহ, আর সেই আবহেই সুপ্রিম কোর্টে ফের সরব হল রাজ্য।

শুক্রবার শীর্ষ আদালতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে যে জুডিশিয়াল অফিসারদের (Judicial Officer) নিয়োগ করা হচ্ছে, সেখানে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতামত নেওয়া হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন (Election Commission) নাকি একতরফাভাবে নির্দেশিকা জারি করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ আদালতের আগের নির্দেশের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখানেই থামেননি সিব্বল। তাঁর বক্তব্য, “পিছন দরজা দিয়ে জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।” কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, কোনটি হবে না— সেই সংক্রান্ত গাইডলাইনও নাকি নির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে তৈরি হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিশেষ করে ডমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে বিভ্রান্তির কথা তুলে ধরেন তিনি। যদিও গত মাসেই কমিশন জানিয়েছিল, এসআইআর-এর কাজে ডমিসাইল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক বলা হয়নি এবং কোন নথি কোন ক্ষেত্রে বৈধ, তার নির্দিষ্ট মানদণ্ডও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের এই সওয়ালের প্রেক্ষিতে কড়া পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, “জুডিশিয়াল অফিসারদের সন্দেহ করা বন্ধ করুন। এবার এর নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।” একই বেঞ্চে থাকা বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, কমিশন ছাড়া প্রশিক্ষণ দেবে কে? আদালতের নির্দেশিকা অত্যন্ত পরিষ্কার, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যদি আদালতের নির্দেশে কোনও নথি গ্রহণের কথা বলা থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখতেই হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ Pakistan Vs Afghanistan wa*r: কাবুল–কান্দাহারে পাকিস্তানের এয়ারস্ট্রাইক! সীমান্ত সংঘাতে ‘যুদ্ধে*র ইঙ্গিত’? পাল্টা দাবিতে উত্তাল ইসলামাবাদ–তালিবান!

শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। বাইরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও কম নয়। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকেই কাঠগড়ায় তুলে ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলেন। সব মিলিয়ে, এসআইআর ঘিরে প্রশাসন, কমিশন ও বিচারব্যবস্থার এই টানাপোড়েন কোন পথে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles