ভোটের আবহে শহর যখন ধীরে ধীরে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই কলকাতার এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের সামনে হঠাৎ তৈরি হল চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি। সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় বিক্ষোভ, স্লোগান আর ধস্তাধস্তি। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই মুহূর্তে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে।
এদিন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁর দাবি, দুই জেলার জেলাশাসক বাদ পড়া নাম তালিকাভুক্ত করতে চাপ দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, শুনানির শেষ দিনে নদিয়ার এডিএম গিয়ে প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এই সংক্রান্ত একটি অডিয়ো নথিও তিনি জমা দিতে গিয়েছিলেন বলে জানান।
কমিশনের দফতরে প্রবেশের সময়ই শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সঙ্গে স্লোগানও দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপিপন্থী বিএলও-রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
অভিযোগ ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থিত বিএলও-দের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগ্বিতণ্ডা। একে অপরের দিকে আঙুল তুলে কথা কাটাকাটি, তারপর ধস্তাধস্তি। পুলিশকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারিকেড বসানো হলেও একাংশ তা ভাঙার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। দফায় দফায় বিক্ষোভে এলাকা কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : একদিকে কেরলের নাম বদলে দ্রুত অনুমোদন, অন্যদিকে বছরের পর বছর অপেক্ষায় বাংলা—মোদী সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে—এমনই অভিযোগ তাঁর হাতে থাকা অডিয়োতে রয়েছে। সেই প্রমাণ জমা দিতেই তিনি কমিশনে এসেছিলেন। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় এই বিতর্কিত ঘটনা। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ থাকছে এবং প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা নিচ্ছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।





