রাজ্যের বহুল আলোচিত শিক্ষক নিয়োগ মামলাকে ঘিরে আবারও উত্তেজনা বাড়ল। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি নানা মোড় নিয়েছে, কখনও তদন্তের দিক থেকে, কখনও আদালতের মন্তব্যে। বৃহস্পতিবারের রায়ের পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ও কৌস্তব বাগচি। আদালতের নির্দেশের পরই তাঁদের প্রতিক্রিয়া জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। রায় বহাল থাকা কিংবা না থাকা—দুই সম্ভাবনাই এখন সমান জোরে ঘুরছে রাজনৈতিক মহল ও আইনি মহলে।
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন জানায়, দীর্ঘ ন’টি বছর ধরে যাঁরা চাকরিতে আছেন তাঁদের চাকরি বাতিল হলে বড় ধরনের সামাজিক প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, চাকরিপ্রাপ্তদের পরিবারগুলোর অবস্থা ও দীর্ঘ কর্মজীবনের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। যদিও এ রায় ঘোষণা হওয়ার পরই আইনি মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
মামলার মূল আবেদনকারী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি শুনানির পরই জানিয়ে দেন—এতেই ইতি নয়। তাঁর কথায়, আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা থাকলেও তাঁরা স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, যা দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, বিচারপতি দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুললেও আসল ভিত্তি ছিল সেন্টিমেন্ট বা আবেগ। ফলে তাঁর দাবি—দুর্নীতির জয় হয়নি, তদন্তও থামছে না। তাই এবার তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই মন্তব্যে মামলাটি নতুন গতিপথ পেতে চলেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় গোটা ইন্টারভিউ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর মতে সেই সময়কার ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াতেই বড় গলদ ছিল। তবে বর্তমান ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য—আদালত কোনও রকম ‘রোমিং এনকোয়ারি’ চালায় না; তাছাড়া যিনি পরীক্ষক ছিলেন তিনি অতিরিক্ত নম্বর নেওয়ার প্রমাণও নেই। তাই সার্বিকভাবে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া গলদে ভরা—এটি পুরোপুরি বলা যায় না।
আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir: “যেদিন আপনার কলার ধরে নেব, সেদিন ছাড়াতে কেউ থাকবে না!”—হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক সতর্কবার্তা ঘিরে রাজ্যপালের ‘আগাম গ্রেফতারের’ নির্দেশ!
তরুণজ্যোতির পাশাপাশি কৌস্তব বাগচিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর দাবি—দুর্নীতি কোনওভাবেই সেন্টিমেন্টের আড়ালে আইনি স্বীকৃতি পেতে পারে না। আরও কঠোর মন্তব্য করেন তিনি—“হলফ করে বলছি, এই রায় বহাল থাকবে না। থাকতে পারে না।” তাঁর এই বক্তব্যের পর নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। এখন নজর একটাই—সুপ্রিম কোর্টে গেলে এই মামলার ভাগ্যে কোন দিকে পাল্লা ভারী হবে।





