তারাতলার দুর্ঘটনার পর বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও সংলগ্ন একাধিক পুরসভা এলাকায় আপাতত সব নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় এদিন এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতা, রাজারহাট নিউ টাউন, মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, সোনারপুর ও বারুইপুর এলাকায় চলা সব নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখা হবে। প্রতিটি বিল্ডিংয়ের প্ল্যান নতুন করে পরীক্ষা করা হবে। কমিটির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কাজ শুরু করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির কারণে শহরের অবস্থা খারাপ হয়েছে এবং একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনও শিক্ষা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি জেল পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন গঠিত কমিটিতে একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞ থাকবেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, খলিল আহমেদ, রাজেশ সিনহা, রচনা ভগত, পাশাপাশি বিল্ডিং ও ফায়ার দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞরা। এই দলই সমস্ত নির্মাণ পরিকল্পনা খতিয়ে দেখবে।
আরও পড়ুনঃ “কণ্ঠস্বর আমারই, তা অস্বীকার করিনি!” তাহলে নমুনা দিতে আপত্তি কেন? সিআইডির নির্দেশকে চ্যালে’ঞ্জ করে হাই কোর্টে অভিষেক, ৩০ জুনের আগেই কি মামলায় আসতে চলেছে নতুন মোড়?
এছাড়া, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও এদিন নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বিতর্কিত নির্মাণ পরিকল্পনায় একাধিক আধিকারিকের পাশাপাশি তাঁরও সই রয়েছে। একই সঙ্গে ‘কালী’ নামের এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তাঁর মাধ্যমেই অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে। তারাতলার ঘটনায় উদ্ধারকাজে সাহায্য করা সব সংস্থাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।






