ব্যস্ত বিমানবন্দরে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর যাতায়াত। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরেই ভরসা করে সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই নিরাপত্তা নিয়েই এবার বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল কলকাতা বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর। আচমকাই ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেল একটি লিফট। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন তিন কর্মী।
মঙ্গলবার দুপুরে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ ডোমেস্টিক ডিপার্চার অংশের ৩৪ নম্বর লিফটে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। সেই সময়ই আচমকা লিফটটি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। ঘটনায় সেখানে কাজ করা তিন কর্মী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী দল। আহত কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানা গিয়েছে। কী কারণে হঠাৎ এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলাকালীন কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে।
বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই ৩৪ নম্বর লিফটটি বেশ কয়েকদিন ধরেই পরিষেবা থেকে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ডোমেস্টিক ডিপার্চার থেকে এরোব্রিজের মাধ্যমে বিমানে উঠতে গেলে যাত্রীদের দোতলায় যেতে হয়। সেই কারণে সেখানে এসকেলেটর এবং লিফট দু’ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে। তবে যাত্রীদের ব্যবহারের আগেই রক্ষণাবেক্ষণের সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটায় নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও ছিলেন ‘ফেরার’, অবশেষে নিউটাউনে পথ দুর্ঘটনার পর গ্রেফ’তার অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ! এবার কি পুলিশের হেফাজ’তেই খুলবে একের পর এক রহস্য?
এই ঘটনার পর বিমানবন্দরের অন্যান্য লিফট ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে আহত কর্মীদের চিকিৎসার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ব্যস্ত বিমানবন্দরে এ ধরনের দুর্ঘটনা যে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের কারণ হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে যাত্রী এবং কর্মীদের মধ্যে।






