উত্তর কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র বড়বাজার এবং পোস্তা চত্বর দীর্ঘদিন ধরেই চিহ্নিত বেআইনি পার্কিং-এর জন্য। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি আসা-যাওয়ার ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও অভিযোগ, রাস্তায় অবৈধভাবে পার্কিংয়ের কারণে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা পৌরনিগমের ২২, ২৩ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে বারংবার এই অভিযোগ উঠে এসেছে বলে খবর।
সোমবার ওই এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস কুমার। তিনি জানান, এদিন পরিদর্শনের সময় কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা এলাকায় রয়েছেন, তাঁরাও জানিয়েছেন ওইদিন কোনও বেআইনি পার্কিং চোখে পড়েনি। যদিও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মেয়র পারিষদের আগমন সংবাদ আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়ায় ওইদিন সকালের দিকেই এলাকা ‘পরিষ্কার’ করে দেওয়া হয়।
২২ নম্বর ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলরের কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসেন মেয়র পারিষদ। সেখানে হাওড়া ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি-সহ উপস্থিত ছিলেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর। যদিও বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল সমস্যার সমাধান, তবে বৈঠক পরবর্তী চিত্র ছিল একেবারে উল্টো। জানা গিয়েছে, বৈঠকের পরেই ফের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক মহল।
বৈঠকের ঠিক পরেই পোস্তার রাস্তাতেই দুই দলের কাউন্সিলরের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। জনসমক্ষে, সংবাদমাধ্যমের সামনেই চলে অভিযোগ, পাল্টা মন্তব্য। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, উপস্থিত সাধারণ মানুষ রীতিমতো জমায়েত করতে শুরু করেন ওই চত্বরে। রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যেকার এই প্রকাশ্য বাদানুবাদ থামাতে অবশেষে মেয়র পারিষদকে নিজেই হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়।
আরও পড়ুনঃ Santiniketan : শান্তিনিকেতনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যবাহী ‘আবাস’! প্রশাসনিক নীরবতায় ক্ষুব্ধ জনতা!
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পথেই নিজের দলের কাউন্সিলরের মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করিয়ে দেন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। যদিও ওই কাউন্সিলর অভিযোগ তোলেন যে, এই বেআইনি পার্কিংয়ের পিছনে বহুদিন ধরেই একটি রাজনৈতিক দল এবং এমনকি এক জনপ্রতিনিধির মদত রয়েছে। অপরদিকে, পাল্টা বিজেপি কাউন্সিলরদের বক্তব্য, মেয়র পারিষদের আগমন আগেই জানাজানি হয়ে যাওয়ায়, ওইদিন কোনও অনিয়ম চোখে পড়েনি। ফলে বিতর্ক থামার বদলে বরং বেড়েই চলেছে। সবমিলিয়ে, বেআইনি পার্কিং ইস্যুতে এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলকাতা পুরসভার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি।






