শান্তিনিকেতনের মাটিতে গড়ে উঠেছিল বহু শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অধ্যায়ের জন্ম। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের ভাবনা, বদলেছে স্থাপত্যের রূপ। তবে কিছু স্মৃতি থেকে যায়, যা শুধুই ইতিহাস নয়, এক একটি ঐতিহ্যের প্রতীক। আর সেই ঐতিহ্য রক্ষায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েই সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন শান্তিনিকেতনের বহু বাসিন্দা।
রবিবার সকালে শহরের একটি পুরনো বাড়ি ঘিরে দেখা যায় চাঞ্চল্যকর চিত্র। একদিকে প্রশাসনের নিরবতা, অন্যদিকে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয় আশ্রমিক, অধ্যাপক ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের কথায়, “এই মাটির সঙ্গে যাঁর নাম জড়িয়ে আছে, তাঁর স্মৃতি যদি রক্ষা না পায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী দেখবে?” যদিও এই বিষয়ে বোলপুর পৌরসভার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
শোনা যাচ্ছে, ঐতিহাসিক একটি বাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ করতে বোলপুর পৌরসভা একসময় গেটে তালা লাগিয়ে কাজ স্থগিত করেছিল। কিন্তু রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, একটি আর্ট অর্ডার (Earth Mover) ঢুকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সেই ঐতিহ্যবাহী নির্মাণ। অথচ ওই সময়েও মূল গেটে ঝুলছিল পৌরসভার তালা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চলল ভাঙার কাজ?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী এই জমিতে ভবিষ্যতে একটি বহুতল গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার জন্যই কি এত তাড়াহুড়ো করে সরিয়ে ফেলা হল ইতিহাসকে? একাংশের মত, কবিগুরুর আদর্শে গড়ে ওঠা শান্তিনিকেতন কি তবে জমির ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ছে? যদিও এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি স্তরে কোনও সুস্পষ্ট বিবৃতি সামনে আসেনি।
আরও পড়ুনঃ Weather update : দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে ধসের আশঙ্কা, কলকাতায় ৩৭ ডিগ্রি গরম! বাংলার দুই প্রান্তে বিপরীত আবহাওয়ার জের!
যে বাড়িটির ভাঙা ঘিরে এত বিতর্ক, সেটি শুধুমাত্র একটি স্থাপত্য নয়, শিল্পী ও লেখক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ‘আবাস’ নামক ঐতিহাসিক স্থাপনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো, এবং বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় আচার্য অবনীন্দ্রনাথের পরিবার গড়েছিল এই বাড়ি। বহু সময় ধরে এখানেই থেকেছেন তিনিও। তাঁর স্মরণেই শান্তিনিকেতনের একাংশের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অবনপল্লী’। আজ সেই বাড়ি আর নেই। ভাঙা ইটের স্তূপে মিশে গিয়েছে ইতিহাস, শিল্পচর্চা ও আবেগের দীর্ঘ পরম্পরা। অথচ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক নীরবতা এখনও অটুট।






