TMC Inside Clash: পার্কিং বিবাদে নিজের দলের মহিলা নেত্রীকে অফিসে ডেকে ধমক এবং ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ! তৃণমূলের অন্দরেই তীব্র বিতর্ক!

উৎসবমুখর সন্ধ্যায় হট্টগোল। মেলার কোলাহল ছেড়ে হঠাৎই উত্তপ্ত হলো পূর্ব বর্ধমানের উৎসব ময়দান। অভিযোগ, সেখানে পার্কিং লটে ছোট্ট এক ‘স্কুটি দাগ’ ঘিরে এমন তর্ক ছড়াল যে, তা পৌঁছল সরাসরি তৃণমূলের অন্দর পর্যন্ত। একদিকে পুরসভার কাউন্সিলর সনৎ বক্সী, অন্যদিকে বৈকুন্ঠপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা সুজাতা মণ্ডল—দুজনেই ঘরোয়া রাজনৈতিক পরিবারভুক্ত।

ঘটনার সূত্রপাত মেলার ভিড়ভাট্টা পেরিয়ে অস্থায়ী পার্কিং লটে। নিজের স্কুটি নিতে গিয়ে দেখেন সুজাতা মণ্ডল, গাড়ির গায়ে একাধিক আঁচড়, রঙ খসে পড়ে গেছে। ক্ষোভে কর্মীদের জিজ্ঞাসা করেন তিনি। অভিযোগ, তখনই সেখানে উপস্থিত কাউন্সিলর সনৎ বক্সী তাঁকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। শুধু তাই নয়, ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী সুজাতা। পরের ঘটনাই আরও বিস্ময়কর—সেই রাতেই তাঁকে নাকি অফিসে ডেকে ধমক দিয়েছেন কাউন্সিলর।

সুজাতা মণ্ডলের বক্তব্য, “আমাকে অপমানিত করা হয়েছে, ঠেলা মেরেছেন, ধমক দিয়েছেন। দলের এক কাউন্সিলর যদি একজন মহিলার সঙ্গে এমন ব্যবহার করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” ক্ষোভে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। দলের কার্যালয়ে বিষয়টি পৌঁছাতেই অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গন্ধ মিলেছে অন্দরমহলে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত কাউন্সিলর সনৎ বক্সী এই অভিযোগ মানছেন না। তাঁর দাবি, “প্রথমে অশোভন আচরণ করেছেন সুজাতা দেবীই। আমি শান্তভাবে বোঝাই, সামান্য দাগ নিয়ে এত হইচই না করতে। পরে উনি আমাকে ‘অসভ্য বুড়ো লোক’ বলে অপমান করেন। তখনই একটু মেজাজ চড়ে যায়।” তিনি ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলেই মন্তব্য করেছেন। দলের একাংশও মনে করছে, স্থানীয় রাজনীতির গোষ্ঠীসমস্যাই এই ঘটনার মূল কারণ।

আরও পড়ুনঃ Content creator : বিরিয়ানি নাকি মেডেল? মিট-আপে হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি—প্রথম আয়োজনেই চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলায় রেগে আগুন ক্রিয়েটররা!

এই তৃণমূল বনাম তৃণমূল দ্বন্দ্বে সুযোগ দেখছে বিরোধীরা। বিজেপির স্থানীয় নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র কটাক্ষ করেছেন, “একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যে নিজের দলের মহিলা সদস্যারাই নিরাপদ নন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপত্তা পাবেন?” আপাতত তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পার্কিং থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনাই এখন বর্ধমানের রাজনীতির নতুন রাজনৈতিক তরজা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles