West Bengal : হাসপাতালের লেবার রুমের পাশে মাইক বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা! সরকারি প্রতিষ্ঠানে তৃণমূলের রাজনৈতিক শো নিয়ে তীব্র বিতর্ক!

ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের সামনে ১ নভেম্বর ছিল খানিকটা অন্য রকম। আনন্দে ভরপুর পরিবেশ, হাসিমুখে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা ছয়তলা ভবনের কাজ শুরু হওয়ার খুশিতে আয়োজিত হয়েছিল একটি অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর সেই উদ্যোগকে ঘিরেই এখন তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কারণ, অভিযোগ উঠেছে — অনুষ্ঠানটি হয়েছিল হাসপাতালের লেবার রুমের একেবারে পাশে, এবং সেখানে বাজানো হয়েছিল উচ্চস্বরে মাইক।

সেই শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায় সহ স্থানীয় নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, হাসপাতালের চত্বরেই বসানো হয়েছিল মঞ্চ। পাশেই ছিল সংবেদনশীল ওয়ার্ড, যেখানে ভর্তি ছিলেন একাধিক রোগী ও সদ্যোজাত শিশু। অভিযোগ, সেই এলাকাতেই তারস্বরে বাজানো হয়েছিল মাইক। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, “হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় কীভাবে এমন অনুষ্ঠান হতে পারে?”

ধূপগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অঙ্কুর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠানের জন্য হাসপাতালের তরফে কোনও লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি। মৌখিকভাবে তাঁকে জানানো হয়েছিল, তবে মাইক ব্যবহারের কথা জানা ছিল না। তাঁর কথায়, “হাসপাতাল চত্বরে মাইক বাজিয়ে অনুষ্ঠান করা একেবারেই অনুচিত। আমরা সাধারণত বাইরে এমন কিছু হলে বারণ করি। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।”

অন্যদিকে, তৃণমূল বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের দাবি, “কোনও উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হয়নি।” তাঁর কথায়, ধূপগুড়ি নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ছয়তলা ভবনের শিলান্যাস করেছেন, তাই জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য। বিধায়ক আরও বলেন, “হাসপাতালের ভেতরে মাইক বাজানো যায় না—এই বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”

বিরোধী দলের অভিযোগ, তৃণমূল ক্ষমতার দাপটে প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করছে। তাঁদের দাবি, লেবার ওয়ার্ডের পাশে এমন কর্মসূচি রাখা রোগী ও নবজাতকের জীবনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারত। হাসপাতাল চত্বরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ও মাইক বাজানো—এই দুই বিষয়কেই তাঁরা কটাক্ষ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ West Bengal : বৃদ্ধাকে গণধ*র্ষণ, ন্যায়ের দাবিতে বিজেপি বনাম পুলিশ সংঘর্ষ! তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে গেরুয়া শিবির, অভিযোগ — “শাসকরা দোষীদের আড়াল করছে ইচ্ছাকৃতভাবে”!

স্থানীয়দের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো ঠিক আছে, কিন্তু হাসপাতাল চত্বরকে উৎসবের মঞ্চ বানানো ঠিক নয়। কেউ কেউ আবার বলছেন, এমন বিতর্ক সৃষ্টি না করে কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। আপাতত, ধূপগুড়ির এই ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরেই আলোচনা শুরু হয়েছে—শুভেচ্ছা না কি শোরগোল, কোনটা বেশি প্রভাব ফেলল সাধারণের মনে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles