রাত গভীর হলেই শান্ত জনপদের আঁধারে যেন লুকিয়ে থাকে অজানা আতঙ্ক। গ্রামের মহিলারা আজও একা বাইরে বেরোনোর আগে মনে একটাই ভয়— নিরাপত্তা আদৌ আছে তো? সম্প্রতি এমনই এক ভয়ঙ্কর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। প্রার্থনার পর বাড়ি ফেরার পথে এক প্রৌঢ়ার জীবনে নেমে আসে বিভীষিকা।
সূত্রের খবর, ঘটনার পর আহত অবস্থায় ওই মহিলা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, যখন তাঁকে ভর্তি করা হয়, তাঁর মুখে ও শরীরে ছিল গুরুতর আঘাতের চিহ্ন। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়, তাঁকে মারধর করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তে ধীরে ধীরে উঠে আসে আরও ভয়ঙ্কর চিত্র— অভিযুক্তরা শুধুমাত্র তাঁকে নির্যাতন করেননি, তাঁকে গণধর্ষণও করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি বীরভূম জেলার সিউড়ির জঙ্গল লাগোয়া এলাকায়। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, রাতে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ তাঁর আর্তনাদ শোনা যায়। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজ শুরু করে এবং আধ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের ভিতর অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁর মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখে চমকে ওঠেন সকলে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সিউড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, আহত মহিলার সঠিক চিকিৎসা করার সুযোগই দেয়নি পুলিশ। তাঁরা দাবি করেন, চিকিৎসা শুরুর আগেই পুলিশ জোর করে মহিলাকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই দেখা দেয় বিজেপি-পুলিশের সংঘর্ষ। উপস্থিত ডিএসপি এবং থানার আইসি-কে ঘিরে বচসা শুরু হয়। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, বিজেপির কিছু কর্মী তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন, এমনকি ডিএসপিকে হেনস্তাও করা হয়।
আরও পড়ুনঃ Accid*ent : ভোরের রাস্তায় ভয়াবহ দু*র্ঘটনা! বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃ*ত্যু অন্তত ২০, আহত বহু!
তদন্তকারীদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে জঙ্গলের আশপাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি সুপরিকল্পিত বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে খুব শীঘ্রই দোষীরা ধরা পড়বে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, এই ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক হলেও বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিতে রাজনৈতিক রং লাগাচ্ছে। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের দাবি, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। এই নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিউড়ি— একদিকে নির্যাতিতার জন্য ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে রাজনৈতিক দায়-দায়িত্ব নিয়ে চলছে চরম তরজা।





