রাজনীতির ময়দানে মতাদর্শের লড়াই নতুন নয়। কিন্তু সেই লড়াই যদি দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে গিয়ে ব্যক্তিগত স্তরে চাপ তৈরির অভিযোগে রূপ নেয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই তা সমাজে প্রশ্ন তোলে। বীরভূম জেলার নানুরে সম্প্রতি তেমনই একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো ওই ভিডিয়ো ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক, যার রেশ ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনীতিতেও।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি নানুর এলাকার একটি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে তোলা বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে এক যুবককে ঘিরে রয়েছেন প্রায় ২৫ জন। সকলেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ভিডিয়োতে দেখা যায়, ওই যুবককে হাতজোড় করে বলতে বাধ্য করা হচ্ছে যে তিনি আর কোনও দিন আরএসএস(RSS)বা বিজেপির(BJP)সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। পরিস্থিতির চাপে পড়ে তিনি সেই কথাই বলেন এবং বারবার ক্ষমাও চান।
ভিডিয়োর ক্যামেরার অপরপ্রান্তে থাকা এক ব্যক্তির কণ্ঠস্বর স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে— “আর জীবনে আরএসএস-বিজেপি করবি?” জবাবে যুবকটি হাতজোড় করে জানান, তিনি আর কোনও দিন ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। এখানেই শেষ নয়, তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করা হয়। আরও অভিযোগ, ভিডিয়োতে হুমকির সুরে বলা হয়, “আজকে ছেড়ে দিলাম, না হলে মানুষের হাতে তুলে দিতাম।” এই অংশ ঘিরেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, উচকারণের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি ও নানুর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রিন্টু পাল এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত। ভিডিয়োতে তাঁকেই দেখা যাচ্ছে বলে দাবি। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা খবর২৪*৭ যাচাই করেনি। এদিকে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, কাউকে জোর করে কোনও মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তবে তিনি এটাও মন্তব্য করেন যে, আরএসএস না করাটা তাঁর মতে “পুণ্যের কাজ”, যদিও পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট তিনি জানেন না বলেই জানান।
আরও পড়ুনঃ Congress MLA Controversy: “রাস্তায় সুন্দরী মেয়ে দেখলেই পুরুষ ধর্ষ*ণ করে ফেলে” — কংগ্রেস বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা!
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যেমন শোরগোল তৈরি হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে— দলীয় মতাদর্শের নামে কি কাউকে প্রকাশ্যে অপমান বা ভয় দেখানো যায়? ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই না হলেও, এর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। বীরভূমের নানুরের এই ঘটনা ফের একবার রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সহনশীলতা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।





