রাত,এলাকায় তখন কার্যত নিস্তব্ধতা। লোকজন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন ধীরে ধীরে। সেই নিরিবিলি সন্ধ্যা হঠাৎই গুলির শব্দে কেঁপে উঠল। এলাকাবাসী কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখা গেল রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছেন এক যুবক। তাঁর রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা। আতঙ্কে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তবে তখনই শেষ হয়ে গিয়েছে সবকিছু—এই রাতেই ঘটে গেল এক নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার গোটরা পঞ্চায়েতের ঘোনা গ্রামের হাজিবাগ মোড়ে। সোমবার রাতে, রাত প্রায় ৯টা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিলেন বছর ২৮-এর তৃণমূল কর্মী আনার মোল্লা। ঠিক সেই সময়ই হঠাৎই একটি মোটরবাইকে এসে হাজির হয় একদল দুষ্কৃতী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তারা প্রথমে কাছ থেকে পরপর গুলি চালায় আনার মোল্লার উপর। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
তবে এখানেই থেমে থাকেনি হামলাকারীরা। গুলি চালানোর পর আনার মোল্লার দেহে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকে তারা। অভিযোগ, অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন দুষ্কৃতী পায়ে হেঁটে এসে আনারকে ঘিরে ফেলে এই আক্রমণ চালায়। পরে এলাকাবাসীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই খুনের পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নাকি কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা বা জমি সংক্রান্ত আর্থিক বিবাদ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে বসিরহাট থানার পুলিশ। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অসুস্থ নির্মলকুমার, হাসপাতালে ভর্তি কিংবদন্তি অভিনেতা — মেয়ের কথায় ভরসা খুঁজছেন অনুরাগীরা
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও আসতে শুরু করেছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “হয়ত দেখা যাবে উনিও জমি মাফিয়া ছিলেন।” তাঁর দাবি, এই ধরনের হত্যাকাণ্ড আসলে শাসকদলের ভিতরের দ্বন্দ্ব এবং বেআইনি জমি কারবারের ফলাফল। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এই মন্তব্যকে তীব্রভাবে নিন্দা করা হয়েছে। এখন দেখার, পুলিশের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং দোষীরা কত দ্রুত চিহ্নিত হয়।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!