গাড়ির মধ্যেই হার্ট অ্যাটাক, গ্রিন করিডোর তৈরি করে পুলিশের গাড়ি করেই প্রৌঢ়কে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন পুলিশ

স্বামী ও স্ত্রী দু’জনেই অফিস থেকে ফিরছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্বনাথ দাস নামের ওই ব্যক্তি। হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। স্বামীর এই অবস্থা দেখে ট্র্যাফিক পুলিশের সাহায্য চান স্ত্রী। কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সৌভিক সরকারের চেষ্টাতেই গ্রিন করিডোর তৈরি করে সেই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। পুলিশের গাড়িতেই হাসপাতালে নিয়ে যান ওই পুলিশকর্মী। প্রাণ বাঁচে ওই প্রৌঢ়ের।  

কী ঘটেছিল গোটা ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটে গতকাল, সোমবার বিকেলে। পুজোর পর সপ্তাহের প্রথমদিনে স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় বেশ ব্যস্ততাই ছিল। অফিস যাত্রীদের ফেরার সময় সেটা আবার তাই আরও বেশি ট্র্যাফিক রাস্তায়। সেই সময়ই নিজেদের গাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে পাইকপাড়ায় বাড়িতে ফিরছিলেন বিশ্বনাথ দাস নামের ওই ব্যক্তি। কিন্তু ব্রেবোর্ন রোড ফ্লাইওভারে থাকার সময় হার্ট অ্যাটাক করে ওই ব্যক্তির।

ক্রমশ ঘামতে থাকেন তিনি। কী করবেন ভেবে না পেয়ে ট্র্যাফিক পুলিশের সাহায্য চান ওই ব্যক্তির স্ত্রী। সেই সময় সেখানে ছিলেন ট্র্যাফিক পুলিশের ওসি সৌভিক সরকার। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন বিশ্বনাথবাবুর অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।

দেরি না করেই ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুমে ফোন করেন তিনি। গ্রিন করিডোর তৈরি করার অনরোধ জানান ওসি কারণ সেই সময় রাস্তায় প্রচুর ট্র্যাফিক। এর জেরে দ্রুত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যেত না।

তাঁর অনুরোধেই ব্রেবোর্ন রোড থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত গ্রিন করিডোর তৈরি হয়। নিজের সরকারি গাড়িতে করেই ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যান ওই ট্র্যাফিক পুলিশের ওসি। সাত মিনিটের মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছে যান তারা।

সেখানে চিকিৎসকদের তিনি অনুরোধ করেন রোগীকে দ্রুত ভর্তি নেওয়ার জন্য। তাড়াতাড়ি বিশ্বনাথবাবুকে ভর্তি করে তাঁকে দেওয়া অক্সিজেন ও নেবুলাইজার দেওয়া হয়। বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন ওই ব্যক্তি। বিপদের সময় সৌভিক সরকারকে এভাবে পাশে পেয়ে ও তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন বিশ্বনাথবাবুর স্ত্রী।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles