হুগলি থেকে শুরু হয়ে এবার টাকি—একই অভিযোগে ফের উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন। নির্বাচনের আগে যেখানে নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে, সেখানে ফের সামনে এল এক শিক্ষক-নেতার নাম। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যাঁর কাঁধে নির্বাচনী দায়িত্ব, তিনিই নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী। ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসার—যাঁদের কাজ ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই করা। নিয়ম অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী এই দায়িত্ব নিতে পারেন না। অথচ অভিযোগ, টাকি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭০ নম্বর পার্টের বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের বুথ কমিটির সদস্য গৌতম মণ্ডল। পেশায় তিনি হাসনাবাদ ব্লকের ন’পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, গৌতমবাবু নিজেই স্বীকার করেছেন তাঁর তৃণমূল পরিচয়। তিনি বলেন, “আমি বরাবর তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। বুথ কমিটিতে, ওয়ার্ড কমিটিতেও আছি। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে বিএলও হয়েছি।” গৌতমবাবুর বক্তব্য, স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সবাইকে বিএলও হতে বলা হয়েছিল, তাই তিনি ফর্ম পূরণ করেছিলেন।
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যেখানে নিয়মে বলা আছে রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য বিএলও হতে পারবেন না, সেখানে উনি কীভাবে দায়িত্ব পেলেন, তা কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আরও পড়ুনঃ SIR News: ‘SIR’-এর নাম শুনেই কাঁপন সীমান্তে! কাঁটাতার টপকে পালানোর চেষ্টা বাংলাদেশিদের, রাজ্যে বাড়ছে উত্তেজনা!
বিতর্কের মুখে গৌতমবাবু অবশ্য জানিয়েছেন, কমিশন চাইলে তাঁকে বাদ দিতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি যে তৃণমূল কর্মী, সেটা আগেই জানিয়েছিলাম। তবু নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব দিয়েছে, তাই কাজ করছি।” এখন প্রশ্ন একটাই—নির্বাচন কমিশন কি এই অভিযোগের তদন্তে নামবে, নাকি ভোটের আগে আরও এমন বিতর্ক সামনে আসবে? ভোটের আবহে এই ঘটনাই আবারও নতুন করে নাড়িয়ে দিল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ।





