রাজ্যে এখন একটাই নাম নিয়ে চর্চা—‘SIR’। এই তিন অক্ষরের নাম উচ্চারিত হলেই যেন হাওয়া বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে থেকে গ্রামবাংলা পর্যন্ত। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সব জায়গাতেই এখন এই শব্দটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রশাসনিক মহলে কেউ সরাসরি মুখ না খুললেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এক অদ্ভুত ভয় আর কৌতূহল। বিশেষত সীমান্তবর্তী এলাকায় এই নামের উচ্চারণেই যেন নেমে আসে নিস্তব্ধতা।
গত কয়েকদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে কোচবিহার—প্রায় সর্বত্রই বাড়ছে উদ্বেগ। BSF-এর হাতে ধরা পড়ছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা, যারা নাকি কাঁটাতার টপকে ওপারে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। সোমবার স্বরূপনগরে চারজনকে আটক করা হয়। রবিবার ফের গ্রেফতার হয় ৩৫ জন, আর ৩১ অক্টোবর ধরা পড়ে আরও ৪৫ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন শিশু। বারবার এমন ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—এরা কি ‘SIR’ আতঙ্কেই ফেরার চেষ্টা করছেন?
এই পরিস্থিতি নিয়েই সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, “এ তো মাত্র স্বরূপনগরের ৯৪টা ধরা পড়েছে। SIR-এর নাম শুনে কাঁপতে কাঁপতে কিছু পালিয়েছে। নিউটাউনে সকালবেলা দেখুন, অনেক কাজের লোক নেই!” তাঁর কথায় স্পষ্ট, রাজ্যে ‘SIR’-এর প্রভাব ভয়ঙ্কর মাত্রায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ জবাব, “বাংলায় কথা বললেই কেউ বাংলাদেশি হয়ে যায় না। যেমন হিন্দি বললেই কেউ পাকিস্তানি হয় না।”
এদিকে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ এলাকা। সীমান্ত সংলগ্ন কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের দাবি, কয়েকটি বুথে ভোটার সংখ্যা হঠাৎই বেড়ে গিয়েছে আশ্চর্যজনক হারে। কোথাও দ্বিগুণ, কোথাও ছয়গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি! অভিযোগ, সীমান্তের খোলা অংশ দিয়েই অনুপ্রবেশ হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় কিছু বাংলাদেশি নাগরিক এখন ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তুলছে।
আরও পড়ুনঃ Train acci*dent : ফের ভয়ংকর ট্রেন দু*র্ঘটনা! বিলাসপুরে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে মুচড়ে গেল কামরা, মৃত-আহতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতি ঘণ্টায়!
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের মদতেই চলছে এই অনুপ্রবেশ ও নথি জালিয়াতি। জলপাইগুড়ির বিজেপি নেতা দধিরাম রায়ের দাবি, “বাংলায় এখন কাগজ তৈরির ফ্যাক্টরি খুলে গেছে।” তবে তৃণমূল মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায়ের বক্তব্য, “সীমান্তের অনেক অংশই জলাশয়ভূমি, যেখানে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব নয়। এর দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের।”





