আমফানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১,০২,৪৪২,০০,০০,০০০ টাকা, কেন্দ্রীয় দলকে হিসাব দিল নবান্ন

দিন পনের আগে ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে হয়েছে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসে রাজ্য পরিদর্শন করে তৎক্ষণাৎ এক হাজার কোটি টাকা সাহায্য ঘোষণা করেন রাজ্যের জন্য। যদিও মমতা সরকার বলে এই পরিমাণ টাকা কিছুই নয়। পরে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশদে জানাতে বলা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যে আমফান বিপর্যস্ত এলাকা খতিয়ে দেখতে আসে কেন্দ্রীয় সরকারের সাতজনের একটি প্রতিনিধি দল।

তাদের কাছেই এবার পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ১,০২,৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করল নবান্ন। শনিবার আমফান বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানেই এই বিপুল অর্থ দাবি করা হয়। ঘূর্ণিঝড় আমফান মোকাবিলায় ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে ১,০০০ কোটি টাকা সাহায্য করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির যা হিসাব পেশ করেছে সেই অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ে ২৮,৫৬,০০০ বাড়ি ভেঙেছে। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ২৮,৫৬০ কোটি টাকা। মোট ১৭ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষের ক্ষতি হয়েছে। যার ফলে কৃষিতে ১৫,৮৬০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এছাড়া উদ্যান পালন বিভাগে মোট ২,৫০,৫৫৬ হেক্টর জমিতে আম, লিচু, পান ইত্যাদি চাষের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের প্রায় ৮,০০০ নৌকা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা বয়েছে। ২১,২২,০০০ গবাদি পশু মারা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে নবান্নের তরফে। মোট ১,৫৮,০০০ হেক্টর জমির বনভূমি নষ্ট হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ১৪,৬৪০টি স্কুল বাড়ির। ১২,৬৭৮টি আইসিডিএস কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩০১টি কলেজ ভবনের ক্ষতি হয়েছে। ২৪৫ কিলোমিটার নদীবাঁধ ও ৪ কিলোমিটার সমুদ্র বাঁধ ভেঙেছে। ফলে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১,০২,৪৪২ কোটি টাকা বলে দাবি নবান্নের। নবান্নের দেওয়া এই রিপোর্ট সোমবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পেশ করবেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান অনুজ শর্মা।

অন্যদিকে, যেদিন আমফান রাজ্যে হানা দেয় সেদিনই রাতে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। একথা মুখ্যমন্ত্রী যখন ঘোষণা করে তখনও ঘূর্ণিঝড় পুরোপুরি বাংলাদেশে ঢুকে পারেনি। এতেই প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা।

কোন প্রযুক্তিতে ঝড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ রিয়েল টাইমে জানতে পারলেন মুখ্যমন্ত্রী? এই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

আরও অন্যান্য খবর