সামনের বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সবকিছু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে থাকলে এতদিনে সব দলেরই শুরু হয়ে যেত প্রার্থী বাছাই করা থেকে প্রচারকাজ। কিন্তু করোনার আবহে সামাজিক দূরত্ব বিধি মানতে হচ্ছে। তাই সাবেকি প্রচার পরিকল্পনা মানে পথসভা, মিটিং-মিছিল, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার এখন মাথায় উঠেছে। কিন্তু একেবারে চুপ করে থাকলে তো হবে না। এখন ডিজিটাল যুগ তাই ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর ভরসা করেই প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল থেকে বিজেপি সহ সব দল।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভার্চুয়াল প্রচার অভিযান শুরুর কথা বলেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে দলের প্রচার-পরিকল্পনার ব্লু প্রিন্ট প্রস্তুত করতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। দলের সমস্ত বিধায়ক, সংসদ সদস্য, জেলা সভাপতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি বিকল্প পথে প্রচারের বার্তা দেন।
করোনার কারণে এখন বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যেকোন রকমের জমায়েত পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ। গোটা বিশ্বজুড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যে কোনও কাজ করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পুরো সমীকরণই বদলে গিয়েছে।
উচ্চস্তরের বৈঠক ডেকে তাই তৃণমূল সুপ্রিমো এবার ঠিক করে দিলেন ডিজিটালি কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। সাম্প্রতিক ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল বিজেপির কাছে যেভাবে ধাক্কা খেয়েছে সেখানে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নিজের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধার করতে পুরোপুরি ঝাঁপিয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে সমস্ত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ সাধনের জন্য তৃণমূল প্রধান একটি পূর্ণাঙ্গ প্রচারের নীতিমালা তৈরি করেছেন। এখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়াই হবে প্রচারের প্রধান মাধ্যম ।
আরও জানা গিয়েছে যে, রাজ্যের সমস্ত জেলার ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল প্রচার চালানোর প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে তৃণমূল কর্মীদের। এইদিক দিয়ে অবশ্য একধাপ এগিয়ে আছে বিজেপি। কারণ বিজেপি ইতিমধ্যে ভার্চুয়াল প্রচার শুরু করে দিয়েছে। অমিত শাহ বিজেপির হয়ে ভার্চুয়াল প্রচার চালাবেন। তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ৬০,০০০ বুথে সরাসরি প্রচার চালাবেন দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে।
তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোন ম্যানুয়াল প্রচার না,সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর ভরসা সেই ডিজিটাল মাধ্যমই।





