Maintenance Claim : স্বামী সম্পত্তি বিক্রি করলেও খোরপোশ আটকানো যাবে না—হিন্দু স্ত্রীর পক্ষে বড় রায় হাইকোর্টের!

দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙার পর সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন অনেক স্ত্রী। আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সামনে আসে দৈনন্দিন খরচ, বাসস্থান ও জীবনযাপনের প্রশ্ন। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, ভরণপোষণের দাবি এড়াতে স্বামী তড়িঘড়ি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। এই বাস্তব পরিস্থিতিতেই স্ত্রীদের অধিকার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিল কেরল হাইকোর্ট, যা ভবিষ্যতের বহু মামলায় দিশা দেখাতে পারে।

সম্প্রতি কেরল হাইকোর্টের ফুল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্বামী ভরণপোষণের মামলা চলাকালীন সম্পত্তি বিক্রি করলেও স্ত্রী তাঁর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হবেন না। আদালতের মতে, হিন্দু বিবাহে বিয়ের মুহূর্ত থেকেই স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার আইনত ‘সুপ্ত’ অবস্থায় জন্ম নেয়। পরে ভরণপোষণের মামলা দায়ের হলে সেই অধিকার আইনি রূপ পায়। ফলে এই সময়ের মধ্যে স্বামী যদি সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, সেই বিক্রির অর্থও স্ত্রীর ভরণপোষণের দাবির আওতায় পড়বে।

বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী, বিচারপতি পি.ভি. কুণহিকৃষ্ণন ও বিচারপতি জি. গিরিশের বেঞ্চ ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্টের ৩৯ ধারা এবং হিন্দু মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডপশন অ্যাক্ট (HAMA)-এর বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। আদালত জানায়, ভরণপোষণের মামলা দায়েরের পর স্ত্রীর অধিকার ‘ইনকোয়েট’ অবস্থায় থাকে এবং চূড়ান্ত আদেশ হলে তা সম্পত্তির ওপর কার্যত চার্জ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, সম্পত্তি বিক্রি হলেও সেই দায় মুছে যায় না।

এই মামলার সূত্রপাত একটি পারিবারিক আদালতের রায়কে ঘিরে। এক মহিলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের মামলা করেন। এর মধ্যেই স্বামী তাঁর সম্পত্তি বিক্রি করেন অন্য একজনের কাছে। পরে পারিবারিক আদালত সেই সম্পত্তির সুবিধা স্ত্রীর পক্ষে দেয়। ক্রেতা আপিল করে দাবি করেন, HAMA আইনে স্পষ্টভাবে এমন সুবিধার কথা বলা নেই। তবে আদালত আগের নজির ও আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সেই দাবি খারিজ করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ “বাংলায় নতুন এক গদ্দার তৈরি হয়েছে” — বেলডাঙার অশান্তির নেপথ্যে বিজেপির ইন্ধনের অভিযোগ অভিষেকের!

এই রায়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে হাইকোর্ট—ভরণপোষণের দায় এড়াতে সম্পত্তি বিক্রি কোনও নিরাপদ পথ নয়। মামলা চলাকালীন বা স্ত্রীর দাবির কথা জেনেও যাঁরা সম্পত্তি কেনেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই অধিকার কার্যকর হবে। ফলে হিন্দু স্ত্রীদের আর্থিক সুরক্ষা আরও মজবুত হল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলায় একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং বহু নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ে সহায়ক হবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর