Beldanga : অশান্তির রেশ কাটেনি বেলডাঙায়—ভাঙচুরের জেরে এখনও স্তব্ধ শিয়ালদহ–লালগোলা শাখা!

দু’দিনের টানা উত্তেজনার পর রবিবার সকাল থেকে আপাতত শান্ত বেলডাঙা। রাস্তাঘাটে ভিড় কম, দোকানপাট ধীরে ধীরে খুলছে, তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরেছে—এমন দাবি কেউই করছে না। সর্বত্র পুলিশের কড়া নজরদারি, এলাকায় ঢুকলেই চোখে পড়ে বাড়তি বাহিনী। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে এখনও আতঙ্ক কাটেনি। স্থানীয়দের কথায়, শান্তির আড়ালে জমে রয়েছে চাপা উৎকণ্ঠা।

এই থমথমে আবহেই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে রেল পরিষেবা। শিয়ালদহ–লালগোলা শাখায় এখনও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। পূর্ব রেল জানিয়েছে, আপাতত কৃষ্ণনগর পর্যন্ত ট্রেন চালানো হচ্ছে, তার পর সেগুলি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন এখনও পরিষেবা স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে ধীরে ধীরে।

ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডে কর্মরত মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে ঘিরে। তাঁর দেহ গ্রামে ফিরতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। কেন ভিন্‌রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বারবার আক্রান্ত হচ্ছেন জেলার শ্রমিকেরা—এই প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। শুক্রবার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়, পাশাপাশি রেলস্টেশনেও চলে ভাঙচুর। সেই অশান্তি শনিবারও থামেনি।

অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা রেলস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পোস্ট উপড়ে ফেলেন। ভাঙচুর চালানো হয় রেলগেট ও একাধিক ক্লক রুমেও। এই ক্ষয়ক্ষতির কারণেই এখনও শিয়ালদহ–লালগোলা শাখায় ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো পুরোপুরি পরীক্ষা না করে পরিষেবা চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ। সম্ভাব্য রুট হিসেবে কৃষ্ণনগর থেকে পলাশি পর্যন্ত ট্রেন চালানো যায় কি না, তা নিয়ে আধিকারিকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুনঃ Maintenance Claim : স্বামী সম্পত্তি বিক্রি করলেও খোরপোশ আটকানো যাবে না—হিন্দু স্ত্রীর পক্ষে বড় রায় হাইকোর্টের!

ট্রেন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সব্জি ও ছানা ব্যবসায়ীরা, যাঁরা প্রতিদিন লালগোলা লাইনের ট্রেন ধরে কলকাতায় যাতায়াত করেন। বাধ্য হয়ে অনেকে বাসে উঠছেন, ফলে সড়কপথে তৈরি হচ্ছে প্রচণ্ড ভিড়। এদিকে, শনিবার রাতেই মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এসপি সানি রাজ জানান, এই অশান্তির ‘মূলচক্রী’ মতিউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে হামলার ঘটনায় আরও চার জন গ্রেফতার। রবিবার নতুন করে অশান্তি ঠেকাতে বেলডাঙায় মোতায়েন রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। তবে কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles