দলের নেতাদের উপরেই তুমুল চটলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। মুখে বড় বড় কথা বললেও কাজের কাজ করছেন না অনেক নেতারাই, এমনটাই দাবী কুণালের। ঠিক কোন নেতাদের দিকে এমন আক্রমণ তাঁর, উঠছে প্রশ্ন।
দলীয় কর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তৃণমূল নেতাদের একাংশকে তোপ দাগেন কুণাল ঘোষ। দলের নিচুতলার কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কয়েকজন কুম্ভকর্ণের ভূমিকায় আছেন। আমাদের জনপ্রতিনিধির সংখ্যা কি কম? অপপ্রচারের ‘কাউন্টার’ কেন পোস্ট হবে না? অধিকাংশের হাতে তো দামী স্মার্ট ফোন আছে। আপনার এলাকায় যে তৃণমূল নেতারা আছেন, সাংসদ হোক কি জেলা সভাপতি… তাঁরা কী পোস্ট করছেন, সেদিকে সবাই নজর রাখুন”।
প্রসঙ্গত, আর জি করের ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাস্তায় নানান আন্দোলনে সরকার বিরোধী একটা ঝড় উঠেছিল। বর্তমানে তা কিছুটা দমেছে কিন্তু তাও দলের নেতাদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবী করলেন কুণাল। তাঁর কথায়, “কমিটি গঠনের সময় যত জনকে পদ চাইতে দেখা যায়, কোনও ভোট এলে যত জনকে টিকিটের জন্যে দেখা যায়, তারাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইটটাকে রিটুইট করার প্রয়োজন মনে করছে না। অনেক বিধায়ক বা সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইটটাকেও রিটুইট করছে না”।
বলে রাখি, লোকসভা নির্বাচনের আগে কুণাল ঘোষের সঙ্গে দলের সম্পর্ক কিছুটা তিক্ত হয়। দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরানো হয়েছিল তাঁকে। তৃণমূলত্যাগী তাপস রায়ের সর্বসমক্ষে প্রশংসা করায় দলের তরফে ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় নানান ভাবে দলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ রেষারেষির জেরে বেপরোয়া গতির ফলে মৃত্যু হলে গাড়িচালকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা হবে, জানিয়ে দিল রাজ্য
তবে উপনির্বাচনের আগে সেই পদ ফিরে পেয়েছেন কুণাল, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। উপনির্বাচনের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল তৃণমূল। সেখানেই সাধারণ সম্পাদকের জায়গায় কুণালের সই দেখা গিয়েছে। ফলে মনে করা হচ্ছে, চুপিসারেই নিজের পুরনো পদ ফিরে পেয়েছেন কুণাল। আর পুরনো পদ পেতেই ফের দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি।





