MHA on Ladakh Violence: রণ*ক্ষেত্র লাদাখ!রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে উত্তাল এলাকা! হিংসা ছড়ানোর জন্য সোনম ওয়াংচুককে দায়ী করল কেন্দ্র!

দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন লাদাখের মানুষ। রাজ্যের মর্যাদা থেকে শুরু করে একাধিক দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছেন। বৃহস্পতিবার সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল লেহ-লাদাখে। সাধারণ দাবিদাওয়া ঘিরে শুরু হওয়া গণআন্দোলন কীভাবে হঠাৎ রূপ নিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে, সেই প্রশ্নই এখন সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, দাবিগুলির প্রতি কেন্দ্রের নীরবতা ক্রমেই ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। অবশেষে লেহ অ্যাপেক্স বডি (LAB)-র যুব শাখার পক্ষ থেকে গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। শুরুতে শান্তিপূর্ণ জমায়েত হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। পাথর ছোড়া, গাড়িতে আগুন লাগানো এবং দফতরে হামলার মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ৭০ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কারফিউ জারি করেছে। জানানো হয়েছে, পাঁচজনের বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া কোনও মিছিল বা পদযাত্রা আয়োজন করা যাবে না। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট অভিযোগ এনেছে পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে। মন্ত্রকের দাবি, তিনি অনশন চালিয়ে গিয়ে যুবসমাজকে উস্কে দিয়েছেন, এমনকি আরব বসন্ত এবং নেপালের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। তাদের মতে, এই উস্কানির ফলেই জনতা হিংসার পথে হেঁটেছে।

শুধু সোনম নয়, বিক্ষোভে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেস কাউন্সিলার ফুন্টসগ স্ট্যানজিন সেপাগের বিরুদ্ধেও। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে তাঁর উপস্থিতি দেখা গেলেও, সেগুলির সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে, বিজেপি অফিস এবং সরকারি দপ্তরে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে লেহ-লাদাখ জুড়ে।

আরও পড়ুনঃ Weather: পুজোয় রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি, অষ্টমী পর্যন্ত মিলবে স্বস্তি, দশমীতে ফের ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

এই দাবিগুলি নতুন নয়। পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল প্রয়োগ, আলাদা পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং দুটি লোকসভা কেন্দ্র গঠনের মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছেন বাস্তবের ‘র‍্যাঞ্চো’ তথা ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী সোনম ওয়াংচুক। ভিডিওবার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন, হিংসার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। তবে তাঁর মতে, কেন্দ্র যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—দাবির লড়াই কি প্রশাসনের সংলাপেই শেষ হবে, নাকি লাদাখ আবারও অস্থির দিন দেখবে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles