বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামাজিক অস্থিরতার আবহে আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ধর্মীয় অনুভূতির নামে উসকে দেওয়া জনরোষ যে কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, ময়মনসিংহের একটি ঘটনা তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তের মাঝে এবার সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল উত্তেজিত জনতা হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে ঘিরে ধরে। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২৮ বছর বয়সি ওই যুবকের। দীপু পেশায় ছিলেন কারখানার শ্রমিক এবং শহরের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডে কাজ করতেন। ঘটনার পর তাঁর দেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জনতা।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার বড় সাফল্য পেল পুলিশ। হত্যার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ইয়াছিন আরাফাত নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে ডিএমপির সহায়তায় তাকে পাকড়াও করা হয়। জানা গেছে, ঘটনার পর প্রায় ১২ দিন ধরে সে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। পুলিশের দাবি, এই সময়ে ইয়াছিন একাধিক মাদ্রাসায় আশ্রয় নেয় এবং পরিচয় গোপন করে শিক্ষকতার কাজও শুরু করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং গাজী মিয়ার ছেলে। সে দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমাম এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিল। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার দিন কারখানার গেটে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা এবং জনতাকে উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইয়াছিনের ভূমিকা স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ ED on mamata Banerjee : “সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্তে বাধা” — প্রতীক জৈনের মোবাইল, ল্যাপটপ ও নথি ‘ছিনিয়ে নেওয়ার’ অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে, বিস্ফোর*ক দাবি ইডির, আদালতের পথে যেতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থা!
এই গ্রেফতারের ফলে দীপু দাস হত্যা মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২১। ইতিমধ্যে ৯ জন অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য দিয়েছেন। নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান এখনও চলছে এবং এই মামলায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।





