কলকাতার রাজনীতিতে ফের অস্বস্তি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক অভিযান ঘিরে এমন কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে। সকালে শুরু হওয়া এই তল্লাশি ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছড়ায় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ তদন্ত বলেই মনে হচ্ছিল, কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে একযোগে প্রায় ১০টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসও এর আওতায় আসে। এই অভিযান ঘিরেই হঠাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি একাধিক নথি সঙ্গে করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনাকে ঘিরেই এবার কড়া বিবৃতি দিল ইডি। সংস্থার বক্তব্য, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে তদন্তাধীন নথি ‘ছিনিয়ে’ নেওয়া হয়েছে। ইডির দাবি, এতে তদন্তের কাজে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হয়েছে। তবে একইসঙ্গে তারা স্পষ্ট করে দেয়, এই তল্লাশি কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
ইডির তরফে আরও জানানো হয়েছে, প্রতীক জৈনের মোবাইল, ল্যাপটপ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেগুলি হস্তগত করতে গিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। ফলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থও হতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee: ইডি তল্লাশির মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে ‘সবুজ ফাইল’ হাতে বেরিয়ে গেলেন মমতা! কী লুকোনো আছে ওই ফাইলে? ভোটের মুখে কলকাতায় তুঙ্গে রাজনৈতিক ঝড়!
এই পুরো ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে ইডির তদন্ত কতদূর এগোবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। আগামী দিনে আদালতের মঞ্চে এই লড়াই গড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।





