এবার লাভ জেহাদের ছায়া ওড়িশায়। দেওয়া হয়েছিল ধর্ম বদলে বিয়ের প্রস্তাব।
কিন্তু রাজি হননি তরুণী। ভয় দেখাতে দেওয়া হয় অপহরণের হুমকিও। কিন্তু কোনও উপায়ই রাজি করানো যায়নি তরুণীকে।
আর তাই দিনের পর দিন এভাবে উত্যক্ত করার পর সত্যিই তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়ে দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে টানা ধর্ষণ করল এক যুবক। ওড়িশায় এমন ঘটনারই অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে ‘লাভ জেহাদ’ বিতর্কের মাঝেই এমনই বীভৎস ঘটনার সাক্ষী থাকলো ওড়িশা। ওই রাজ্যের জজপুর থেকে ২৪ বছরের অভিযুক্ত মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, তার আগে গত বৃহস্পতিবার কটক থেকে ২১ বছরের ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। বারো দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন নিগৃহীতা ওই তরুণী। অভিযোগ উঠেছে, কলেজে যাওয়ার সময় তাঁকে অপহরণ করেছিল অভিযুক্ত। তরুণীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এরপর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধর্মশালা থানার পুলিশ ইনস্পেক্টর সরোজ সাহু জানিয়েছেন, তরুনীর মেডিক্যাল পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। তাঁর কথায়, “মেডিক্যাল পরীক্ষায় প্রমাণিত, ওই তরুণীকে বহুবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আজ জেলাশাসকের সামনে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। বিচারবিভাগীয় হেফাজত পাঠানো হয়েছে অভিযুক্তকে।”
এই ঘৃণ্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কেবল অভিযুক্তই নয়, তার বাবাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি লাগাতার ওই তরুণীর অভিভাবকদের হুমকি দিচ্ছিলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য, গত ৫ই ডিসেম্বর কলেজে যাচ্ছিলেন নির্যাতিতা তরুণী। সেই সময়ই তাঁকে অপহরণ করে অভিযুক্ত। তাঁর মোবাইল ফোনটিও সুইচ অফ হয়ে যায়। পরিবারের সকলে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও কোনও চিহ্ন না পেয়ে শেষে পুলিশে এফআইআর দায়ের করেন। এফআইআরে তরুণীর বাবা অভিযোগ করেন, ওই যুবক বারবার তাঁর মেয়েকে বিরক্ত করত ধর্ম বদল করে বিয়ে করার জন্য। যেহেতু ওই তরুণী সেই প্রস্তাবে রাজি হননি, তাই তাঁকে অপহরণের হুমকি দেয় অভিযুক্ত।
সম্প্রতি ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে দেশভর বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুসলিম যুবকরা হিন্দু মেয়েদের কাছে ধর্ম পরিচয় লুকিয়ে বিয়ে করার সময় জোর করে তাঁদের ধর্মান্তরিত করছে বলে অভিযোগ কট্টর দক্ষিণপন্থীদের। লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইন এনেছে যোগী আদিত্যনাথের উত্তর প্রদেশ। মধ্যপ্রদেশ সহ আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই আইন লাগু হওয়ার পথে।






