সদ্য সমাপ্ত বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে হেরে গেছেন লকেট চট্টোপাধ্যায় বাবুল সুপ্রিয়’র মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা সেখানেই জিতে তাক লাগিয়েছেন চন্দনা বাউড়ি, দিবাকর ঘরামিরা। তাঁদের জেতায় খুশি হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বও।
কিন্তু এবার এই নবনির্বাচিত বিধায়করাই পরেছেন মহা ফ্যাসাদে। যথারীতি বিধায়ক হয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু যাদের নিজেদেরই দিন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কীভাবে নেবেন তা ভেবেই কূলকিনারা করে উঠতে পারছেন না নবনির্বাচিত দিনমজুর বিধায়করা।
প্রসঙ্গত, চন্দনা বাউরির স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। নিজেদের ঘরটাই নড়বড়ে। সেখানে চার-চারজন জন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীকে কীভাবে রাখবেন তাঁরা তা ভেবেই কুল পাচ্ছেন না বাঁকুড়ার শালতোড়ের এই জননেত্রী।
প্রসঙ্গত, ভোটযুদ্ধের আগে থেকেই রাজ্য পুলিশের একজন নিরাপত্তারক্ষী তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও চারজন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষী। কিছু পায় না পেয়ে আপাতত তাঁদের খাওয়া-দাওয়ার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন বিধায়ক চন্দনা। অভাবের সংসারে ভাত মুড়ি যা জুটছে সেটাই ভাগ করে খাচ্ছেন তাঁরা সকলেই।
নিজের বাড়িতে স্থান সংকুলানের জন্য প্রতিবেশীর নির্মীয়মান বাড়িতেই তাঁদের রেখেছেন বিধায়ক।
চন্দনা বাউড়ির কথায়, ‘জওয়ানদের রাখার মতো ঘর আমাদের নেই। পাশেই একজনের বাড়িতে তাঁদের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সেখানে আবার জানালা, দরজা ছিল না। ভোটের আগে বাড়িতে লাগাব বলে দুটো জানালা আর একটা দরজা কেনা হয়েছিল। আপাতত ওই গুলোই স্বামী ওই বাড়িতে লাগিয়ে দিয়েছে।’
তবে এই গরীবের সংসারে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা তিনি চান না বলে ইতিমধ্যেই ফেসবুকে জানিয়ে দিয়েছেন চন্দনা।
আরও পড়ুন- অপ্রতিরোধ্য সোনুর মানবসেবা! এবার হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট বসাতে চলেছেন তিনি
শালতোড়ার বিধায়কের মতো একই সমস্যায় পড়েছেন সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামিও। দিন আনা দিন খাওয়া সংসার তাঁর। কোনওক্রমে চাষ আবাদ করে সংসার চলে তাঁর। ভোটে জেতার পর তিনিও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষী ৪জন ও রাজ্য পুলিশের ১জন মিলিয়ে মোট ৫ জনকে এই অভাবের সংসারে টানতে হচ্ছে তাঁকে। কোনওরকমে নিজের দোকানঘরে তাঁদের ঠাঁই দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘খুব কষ্ট করেই জওয়ানরা থাকছেন। আমরা যা খাচ্ছি সেটাই খাওয়াচ্ছি।’






