‘করোনাকালে পরিবার হিসাবে দাঁড়িয়েছিল গোটা দেশ’, বছরের শেষ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আবেগঘন প্রধানমন্ত্রী মোদী

আর মাত্র হাতে কয়েকটা দিন। বছরের শেষ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বেশ আবেগঘন হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে এলো দেশের করোনা ও ওমিক্রন পরিস্থিতি। এরই সঙ্গে দেশের নানান কাজে সাধারণ মানুষের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গতকাল, শনিবার জানানো হয়েছিল যে বছরের শেষ মন কি বাত অনুষ্ঠান হতে চলেছে আজ, রবিবার সকাল ১১টায়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও জানান যে আজকের ৮৪ তম পর্বই বছরের শেষ পর্ব হতে চলেছে।

এদিন ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটা সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি, যখন ২০২১ সালকে বিদায় জানিয়ে, ২০২২ সালকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। আসুন এই সময়ে দাঁড়িয়েই আমরা শপথ নিই যে আরও ভাল কিছু করার, আগামী বছর যাতে আরও ভাল হয় এং আমরাও যাতে নিজেদের আরও ভাল করে তুলতে পারি, সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যেতে হবে”।

এদিন মন কি বাত অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত সাত বছর ধরে আমাদের মন কি বাত অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষকে আরও ভাল, আরও উন্নতি করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের ভাল দিক গুলি তুলে ধরে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। আমার কাছে মন কি বাত অনুষ্ঠান সরকারের কাজগুলিকে তুলে ধরার জায়গা নয়। হয়তো সহজেই এই কাজ করা যেত, তবে এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবেই সমাজের তৃণমূল স্তরের মানুষ, যারা পরিবর্তন আনছেন, তাদের সেই উদ্যোগ-প্রচেষ্টাগুলিকে তুলে ধরার একটি মঞ্চ”।

এদিন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, সংবাদমাধ্যমে প্রচার, খবরের কাগজের হেডলাইন থেকে দূরে থেকেও এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যারা দারুণ কাজ করছেন। তারা নিজেদের বর্তমানকে ব্যয় করছেন দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি করার জন্য। দেশের আগামী প্রজন্ম যাতে সুষ্ঠ সমাজ, পরিবেশ পায়, তার জন্য ওনারা মন-প্রাণ দিয়ে পরিশ্রম করছেন। এই ধরনের মানুষদের কথা আলাদাই একটা প্রশান্তি দেয় ও অনুপ্রেরণা জোগায়”।

দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোদী জানান, “আমাদের দেশ আজ করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র জনশক্তির মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। দেশে টিকাকরণের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতেই আমাদের দেশের গবেষকদের উদ্বাধনী শক্তি ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ফুটে উঠছে। করোনাকালে একটি পরিবার হিসাবে দাঁড়িয়েছিল গোটা দেশ। ভারতে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট, ওমিক্রন প্রবেশ করেছে। এই সময়ে আমাদের অতি সতর্ক থাকতে হবে এবং সর্বক্ষণ করোনা বিধি মেনে চলতে হবে। নতুন বছরের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে আমাদের শপথ নিতে হবে করোনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের প্রচেষ্টা যাতে আরও বৃদ্ধি পায়”।

https://twitter.com/ANI/status/1474977754655252481?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1474977754655252481%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Ftv9bangla.com%2Findia%2Fpm-narendra-modi-addresses-this-years-last-episode-of-mann-ki-baat-remembers-cds-bipin-rawat-482484.html

জ্ঞানের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করতে বইয়ের থেকে ভালো বিকল্প আর কিছু হতে পারে না, এমনটাই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “আসুন, বই পড়াকে আরও জনপ্রিয় করে তুলি। আমি সকলকে বলছি আপনারা জানান এই বছর কী কী বই পড়েছেন। এর মাধ্যমে বাকিরাও ২০২২ সালের জন্য তাদের বইয়ের তালিকা তৈরি করে নিতে পারবেন”। প্রত্যেক বছরের মতো ২০২২ সালেও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য় “পরীক্ষা পে চর্চা” অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

RELATED Articles