ভগবান রাম নেপালি, আসল অযোধ্যা নেপালেই। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির আজব দাবিতে তাজ্জব সকলেই। সকলেই বলতে শুরু করেছেন যে ভারতের তিনটি জায়গা দখল করে শান্তি হয়নি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর। এবার খোদ ভারতীয় দেবতাকেই নেপালি বানিয়ে দিতে চাইছেন অলি! স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে যে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সোমবার দাবি করেছেন যে আসল অযোধ্যা নেপালেই অবস্থিত এবং ভগবান শ্রী রাম আসলে নেপালি!
বালুওয়াতারে নিজের বাসভবনে কবি ভানুভক্ত আচার্য এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, “আমাদেরকে সাংস্কৃতিকভাবে দমিয়ে রাখা হয়েছে। সত্যকে বিকৃত করা হয়েছে। আমরা এখনও বিশ্বাস করি যে আমরা সীতাকে ভারতীয় রাজপুত্র রামের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু রাম যে অযোধ্যার রাজপুত্র ছিলেন সেই অযোধ্যা আসলে নেপালে অবস্থিত, ভারতে নয়। বীরগঞ্জের পশ্চিমের একটি ছোট্ট গ্রাম হল অযোধ্যা, রামের জন্মস্থান হিসেবে এখন যে অযোধ্যাকে বলা হয় সেটা আসল নয়।”
বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতের সঙ্গে নেপালের কূটনৈতিক লড়াই চলছে। ভারতের উত্তরাখণ্ডের তিনটি অঞ্চল নেপাল সম্প্রতি নিজেদের ম্যাপে জায়গা করিয়ে নতুন করে মানচিত্র প্রকাশ করেছে। সেই নিয়ে নয়া দিল্লি বনাম কাঠমান্ডুর বিবাদ চরমে উঠেছে।
গত ৮ই মে উত্তরাখণ্ডের ধরচুলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং লিপুলেখ উপত্যকা সংযোগকারী একটি ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার উদ্বোধন করেন। এরপরই ভারত ও নেপালের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নেপাল এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে এবং জানায় যে নেপালের জায়গায় ভারত রাস্তা বানিয়েছে।
এরপরেই নেপাল নিজেদের রাজনৈতিক মানচিত্রে ভারতীয় ভূখণ্ডকে প্রবেশ করিয়ে দেয়। ভারত সেই ঘটনায় তীব্র ক্ষুব্ধ হয় এবং নেপালকে একটি কূটনৈতিক পত্রও পাঠায়। অবস্থার আরো অবনতি ঘটে যখন প্রধানমন্ত্রী অলিকে নিজের দলের লোকেরাই তাকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং তার কারণ হিসেবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারতের উপর দোষ চাপান। তিনি এও বলেন যে তার দলের শীর্ষ নেতারা ভারতের সঙ্গে যোগসাজশ করে তার উপর চাপ দিচ্ছেন পদত্যাগ করার জন্য।
এই ঘটনায় তার দল নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি প্রচন্ড অসন্তুষ্ট হয়। নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম সদস্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রচন্ড বলেন যে, অলির এই ভারত বিরোধী মন্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভাবে কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।





