প্রকৃতির রোষে চীন। ফুঁসছে গালওয়ান নদী। রীতিমতো প‍্যাঁচে লাল ফৌজ!

লাদাখের গাল‌ওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে পিছু হাঁটলেও এখনও সেনা সমাবেশ কিছুমাত্র কমায়নি চীনা সেনা। গালওয়ানের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ধরে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যা গালওয়ানের স্ট্যান্ড অফ পয়েন্ট থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু একত্রিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পিপিলস লিবারেশন আর্মির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে প্রকৃতি। কারণ প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এই সময় গালওয়ান নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়ে যায়। আর যার ফলে তৈরি হয় বন্যা পরিস্থিতিও।

বিশেষজ্ঞদের মতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সময় আকসাই চীন থেকে তৈরি হওয়া গালওয়ান নদীর জলের স্তর বেড়ে যায়। কারণ এই সময় গলতে থাকে উৎপত্তি স্থল বা নদীখাতে জমে থাকা বরফ। আর তাতেই যে কোনও মুহূর্তে বেড়ে যেতে পারে জলের স্তর। তীব্র গতিতে তুষার গলে যাওয়ার কারণে যে কোনও মুহূর্তে জলস্তর বেড়ে গিয়ে বন্য পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি তৈরি হলে গালওয়ান নদী ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেই সময় নদী যেকোনও তীরবর্তী এলাকাই বিপদমুক্ত নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সমর বিশেষজ্ঞ আরও জানিয়েছেন নদীর তীরে বেশ কয়েকটি তাবু তৈরি করেছে চিন। বেশ কয়েকটি এলাকায় নদীর জল স্ফীত হয়ে বন্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই গালওয়ানের ১৪ নম্বর পেট্রোল পয়েন্টে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিল ভারত ও চীন দুই সেনা প্রতিপক্ষ। যাতে মৃত্যু হয় জন ভারতীয় জওয়ানের। চীনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়নি সেনা মৃত্যু সম্পর্কে তবে শেষ বৈঠকের পর গালওয়ান থেকে সৈন্য সরাতে চিন রাজি হয়েছেন। কিন্তু নতুন করে প্যাংগং লেক এলাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলাতা। প্যাংগং-এর বিস্তীর্ণ এলাকা চীন নিজেদের বলে অযৌক্তিকভাবে দাবি করছে। যা মেনে নেওয়া হয়নি বলেই সেনা সূত্রের খবর। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারত ও চীন দুই পক্ষ‌ই আরও সামরিক বৈঠকে রাজি রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।

RELATED Articles

Leave a Comment