এই জায়গার বয়স পেরিয়েছে ১০০। কিন্তু নতুনদের ভিড়ে আজও থিক থিক করে কলেজ স্ট্রিটের প্যারামাউন্ট। ছোট্ট পরিসরে কাঠের বেঞ্চ শ্বেতপাথরের টেবিল এর এক ফালি জায়গা। কিন্তু এর আকর্ষণ নবীন থেকে প্রবীণ সকলের কাছেই অমোঘ। প্যারামাউন্টের শরবতে গলা ভিজিয়েছেন অনেক সেলিব্রিটি। এখানকার আইকনিক ডাবের শরবতে তেষ্টা মেটাননি এরকম বাঙালি খুব কমই আছেন। কিন্তু লকডাউনের জেরে প্যারামাউন্টে মিলছে না এই ডাবের সরবত। কাঁচের গ্লাসের বদলে জায়গা করে নিয়েছে প্লাস্টিকের গ্লাস। একসময় ভিড়ে জায়গা পেতেন না অনেকে, লম্বা লাইন পড়ত প্যারামাউন্ট এর বাইরে। এখন প্যারামাউন্ট কার্যত ফাঁকা হয়ে আছে।
শরবতের দোকান বলতেই আমাদের মনে কিন্তু আসে প্যারামাউন্টের নাম। বইপাড়ায় আসবো, অথচ কফি হাউস-প্যারামাউন্ট যাব না এরকম হয়না। প্যারামাউন্টে ডাবের শাঁস দিয়ে তৈরি শরবত অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেই প্যারামাউন্টে এখন গিয়ে চাইলেও মিলছে না ডাব শরবত। লকডাউন এর জেরে ডাব মিলছে না। আসলে প্যারামাউন্টের ডাবের শরবতের জন্য ডাব সরবরাহ হত বসিরহাট থেকে। বসিরহাটের ডাবের জল অত্যন্ত মিষ্টি এবং ডাবের শাঁস হয় তাও ভীষণ নরম হয়। তাই প্যারামাউন্টের ডাবের শরবতের যে অনন্য স্বাদ তা অন্য কোনও ডাবের থেকে আসা সম্ভব না। প্যারামাউন্ট এর মালিক মজুমদার পরিবার অন্য যেকোনো ডাব দিয়ে ডাবের শরবত বানিয়ে মানুষকে খাওয়াতে চাইছেন না কারণ তাদের কাছে কোয়ালিটি আগে।তবে শুধু ডাব শরবত নয়, এখন মিলছে না রাবড়ি, কিসমিস, কাজু আর অ্যালমন্ড দিয়ে বানানো প্যাশন ফ্রুট সরবত।
বিগত ১০ দিনে যারা প্যারামাউন্টে পা রেখেছেন তারা তেষ্টা মেটাচ্ছেন ম্যাঙ্গো ম্যানিয়া বা অন্যান্য বিখ্যাত শরবত দিয়ে।
কলেজ স্ট্রিটের চতুর্দিক ঘিরে রয়েছে নামকরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। সেগুলি এখন বন্ধ। রেল চলাচল বন্ধ হওয়ায় কলকাতায় মানুষের আনাগোনা কম। তাই প্যারামাউন্টে সেই চেনা ভিড় এখন আর হচ্ছে না। খুব শীঘ্রই সেই সুদিন আবার ফিরবে বলে আশা করছেন সকলেই যখন ডাবের শরবত নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠবে বাঙালি।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার