বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের খবর নতুন নয়, কিন্তু এবার যেন নৃশংসতার সীমা পেরিয়ে গেল ঘটনা। প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীকে প্রথমে মারধর, তারপর ইট-পাথরে থেঁতলে খুন—আর খুনের পর? তাঁর নিথর দেহের উপরে উঠে নাচ করল খুনিরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য। ঘৃণা, শোক আর ক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। তবে এই ঘটনায় শুধু সাম্প্রদায়িক রংই নয়, রাজনীতির গন্ধও ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে। ভরদুপুরে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে হিন্দু ব্যবসায়ী লালচাঁদ সোহাগকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়। পেশায় স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে তাঁকে কিল-ঘুষি মারা হয়, তারপর মাথায় ইট-পাথর মেরে তাঁকে ফেলে রাখা হয় রাস্তায়। এখানেই শেষ নয়—খুনিরা তাঁর মৃতদেহের উপর উঠে পাগলের মতো নাচানাচি শুরু করে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, লালচাঁদ আগে বিএনপি-র ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং দলের হয়ে চাঁদা তুলতেন। চাঁদা সংগ্রহ করে তা বিএনপি নেতা ইসহাকের হাতে তুলে দিতেন। কিন্তু সম্প্রতি এই চাঁদা সংগ্রহে তার ভূমিকা কমে আসে, চাঁদার অঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়া হয়, এবং লালচাঁদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি অন্য বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই সম্ভবত তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ। ইসহাকের ঘনিষ্ঠরাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অনুমান।
ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। শনিবার ঢাকার রাস্তায় কয়েকশো ছাত্রছাত্রী নেমে প্রতিবাদ জানায়। তাঁরা মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি তোলেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আরও ২০ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফের ঘনাচ্ছে নিম্নচাপ, আলিপুর হাওয়া অফিসের হলুদ সতর্কতা — নতুন সপ্তাহেও রাজ্যে বজ্র-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানান, মিটফোর্ডের এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বর্বর। এই ধরনের ঘটনার কোনও স্থান নেই একটি সভ্য সমাজে। সরকার ইতিমধ্যেই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং মামলাটি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, এই বর্বর ঘটনায় জড়িত সবাই শাস্তি পাবে এবং সমাজে আইনের প্রতি ভয়ের বার্তা দেওয়া হবে।





