Operations sindoor : ভারতের রাতের হামলায় কাঁপছে পাকিস্তান! ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর যুদ্ধ পরিস্থিতি, জরুরি অবস্থা পাঞ্জাবে!

সাধারণত রাতের শহর একটু ধীর-স্থির থাকে। কাজের ক্লান্তি ভুলে মানুষ পরিবার নিয়ে সময় কাটায়। কিন্তু মঙ্গলবার রাতটা যেন বদলে গেল পাকিস্তানের বহু মানুষের কাছে। আচমকা ফোনে এলো সরকারি সতর্কবার্তা—বাড়ি থেকে যেন কেউ না বের হয়। কেউ কেউ জানলেন, ছুটি বাতিল হয়ে গেছে, কেউ জানলেন—সব স্কুল-কলেজ বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রামে। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় গুঞ্জন, গুজব আর ভয়ের ছায়া।

পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে বহু দশক ধরে চলছে টানাপোড়েন। কাশ্মীর ইস্যু ঘিরে কয়েকবার যুদ্ধের মুখোমুখিও হয়েছে দুই দেশ। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি যেন অন্যরকম। বিগত কয়েকদিনে একাধিক হুমকি, জলচুক্তি স্থগিত, বাণিজ্য বন্ধ—সব মিলিয়ে যুদ্ধ যেন বাস্তবতার কাছাকাছি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ‘এ কি ১৯৯৯-এ ফিরে যাওয়া?’ কারণ তখনও এমনই এক উত্তেজনার আবহে ছড়িয়ে পড়েছিল কারগিল যুদ্ধের আগুন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরই পরিস্থিতি দ্রুত ঘোরালো আকার নেয়। ভোররাতেই পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নেওয়াজ। বাতিল করে দেওয়া হয় সব চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মীর ছুটি। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদের তলব করা হয়। বন্ধ ঘোষণা করা হয় স্কুল-কলেজ। রাজধানী ইসলামাবাদেও বন্ধ করে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

হামলার পর পরই পাকিস্তান ৪৮ ঘণ্টার জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে কাতার এয়ারওয়েজ সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করে। কাতার এয়ারওয়েজের বিবৃতিতে জানানো হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আপাতত পাকিস্তানগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া নয়টি শহর থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটও জানায়, উত্তর ভারতের বহু বিমানবন্দর অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Operation sindoor : ‘স্বামী হারানোর যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব হল’! মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন শহিদদের পরিবার!

মঙ্গলবার মধ্যরাতে ‘অপারেশন সিঁদুর ’-এর আওতায় পাকিস্তানের নয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, এতে দুই শিশুসহ ৮ জন নিহত হন, আহত হন আরও ৩৫ জন। পাল্টা জবাবে ভারতীয় নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গুলি চালায় পাকিস্তান সেনা, যাতে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ২৬ জন নিহত হওয়া সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান এ হামলায় জড়িত। যার জবাবেই শুরু হয়েছে এই অপারেশন, স্থগিত হয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি, বন্ধ হয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধ যেন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles