Operation sindoor : বিরাট সাফল্য ভারতীয় বায়ুসেনার! লাহোরে ধ্বংস পাকিস্তানের HQ-9 প্রতিরক্ষা ঘাঁটি

শুধু জম্মু-কাশ্মীর নয়, ভারতের যে কোনও প্রান্তেই যখন সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ হয়, তা শুধু নিরীহ প্রাণহানিই নয়, গোটা জাতির আত্মসম্মানেও আঘাত। কিছুদিন আগেই পাহালগামে ঘটে যাওয়া সেই নারকীয় ঘটনার স্মৃতি এখনও অনেকের চোখে জল এনে দেয়। হিন্দু পর্যটকদের উপর পরিকল্পিত আক্রমণে যখন ২৬ জন প্রাণ হারালেন, গোটা দেশ তখন প্রতিশোধ চাইছিল। কেউ বলছিল, “চুপ থাকলে চলবে না আর”, আবার কেউ বলছিল, “যতই শান্তি চাই, সীমা ছাড়ালে জবাব দিতেই হবে”।

শুধু আবেগে নয়, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিতে হয় কৌশলে। তাই পাহালগামের ঘটনার পর কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা সেনা দফতর মুখে কিছু না বললেও, দেশের প্রতিটি মানুষ জানত—এই নীরবতা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং কিছু বড়ো কিছুর প্রস্তুতি। কাশ্মীরের সীমান্তে সেনা সরানো, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, কিংবা কূটনৈতিক স্তরে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সংযোগ—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ভারত এবার চুপ করে থাকছে না।

অবশেষে ৭ মে রাতেই শুরু হয় সেই প্রত্যাঘাত, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। রাতভর পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। বাহাওয়ালপুর, মুজাফফরাবাদ, মুরিদকে, করাচি, সিয়ালকোট-সহ মোট ৯টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে মিরাজ ও সুখোই যুদ্ধবিমান। মূলত লস্কর-ই-তইয়্যেবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটি বলে চিহ্নিত জায়গাগুলিতেই ছিল এই আক্রমণ। ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, এই অভিযানে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

অন্যদিকে, পাকিস্তান বলছে—এই হামলায় তাদের ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় ৫টি যুদ্ধবিমান এবং একটি ড্রোন তারা গুলি করে নামিয়েছে। যদিও ভারত সরকার এই দাবি অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদ আরও বলেছে, তারা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেবে এবং এই ঘটনার পরিণতি ভারতের ভোগ করতেই হবে। যদিও বাস্তবে, ভারতের এই অভিযানে পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে—এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলি।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh on Operation Sindoor: শুধু জঙ্গিঘাঁটি নয়, ‘অপারেশন সিঁদুর’ কাঁপিয়ে দিল বাংলাদেশকেও! গোপনে কী করছে ইউনূস প্রশাসন?

ভারতের তরফে এই হামলার পর কূটনৈতিক স্তরেও নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব। আমেরিকা, জাতিসংঘ, রাশিয়া ও চিন উভয় দেশকে সংযত থাকার বার্তা দিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল—ভারত এই অভিযানে কোনও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানেনি, বরং নিখুঁতভাবে শুধুমাত্র সন্ত্রাসের ঘাঁটিতেই হামলা চালিয়েছে। একাধিক সামরিক রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানের কয়েকটি রাডার স্টেশন, ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও কমিউনিকেশন হাব সম্পূর্ণভাবে বিকল হয়ে গেছে, ফলে তারা আগামী দিনে কোনও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালানোর মতো ক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে এটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles