‘সন্ত্রাসবাদের কাছে কখনও মাথা নত করবে না ভারত’ পহেলগাঁও হাম*লার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা নরেন্দ্র মোদির! শহিদদের স্মরণে আবেগঘন শ্রদ্ধা ও কঠোর হুঁশি*য়ারিতে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ?

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বর্ষপূর্তিতে আবারও শোক, স্মৃতি আর কঠোর বার্তায় একজোট হল দেশ। গত বছরের সেই ভয়াবহ দিনের কথা স্মরণ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, সন্ত্রাসবাদের কাছে কোনওদিন মাথা নত করবে না ভারত। তাঁর এই বার্তা শুধু শোকপ্রকাশ নয়, বরং দেশের অবস্থানকে আরও একবার দৃঢ়ভাবে তুলে ধরল।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, গত বছর এই দিনেই পহেলগাঁও-এ ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাঁদের স্মরণ করে তিনি জানান, “তাঁদেরকে কখনও ভোলা হবে না।” শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ক্ষতি শুধুমাত্র পরিবারের নয়, গোটা দেশের। এই ঘটনা আজও দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দেয় এবং মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। তাঁর কথায়, “জাতি হিসেবে আমরা দুঃখ ও সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। ভারত কোনও প্রকার সন্ত্রাসবাদের কাছে মাথা নত করবে না।” তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনও ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। এই বার্তা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, ভবিষ্যতেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে ভারত।

এদিকে হামলায় নিহতদের স্মরণে লিদ্দার নদীর তীরে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কালো মার্বেলে খোদাই করা রয়েছে নিহতদের নাম। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেখানে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য সভার আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন। বহু পর্যটকও সেখানে এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে যে বৈসারণ উপত্যকায় এই হামলা হয়েছিল, নিরাপত্তার কারণে সেটি এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে। পহেলগাঁওয়ের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র খোলা থাকলেও গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার অনেক ভুল আছে, অভিষেক ঠিকই বলে’ ভোটের মুখে নিজের দল নিয়ে কি আক্ষেপ প্রকাশ করলেন মমতা ব্যানার্জি?

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞেস করে ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় বাসিন্দাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে নিরাপত্তাবাহিনীর কিছুটা সময় লাগায় ততক্ষণে জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। পরে ভারত এই হামলার জবাবে কঠোর সামরিক অভিযান চালায় এবং পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, আকাশপথে সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায় পরিস্থিতি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ আজও দেশের মানুষের মনে তাজা, আর সেই কারণেই এই দিনটি শুধু শোকের নয়, দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles