জগদ্দলের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে হঠাৎই আত্মসমালোচনার সুর শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। নির্বাচনের মুখে এমন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি যেমন দলের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন, তেমনই একইসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে কড়া বার্তাও দিয়েছেন। এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
মঙ্গলবার জগদ্দলে তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে সরাসরি বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমারকে নিশানা করেন মমতা। উল্লেখ্য, রাজেশ কুমার প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এবং কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার। সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। সভা থেকে মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সোমনাথ শ্যামকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা চলছে। তাঁর দাবি, “একটা চোর পুলিশকে দাঁড় করিয়েছে,” এবং সেই ব্যক্তি আগে পুলিশে থাকলেও এখন অবসর নিয়েছেন।
মমতা আরও বলেন, এই একই ব্যক্তি নন্দীগ্রামে তাঁর ভোট দখলের চেষ্টা করেছিল, তবুও তিনি পরাজিত হননি। তিনি অভিযোগ করেন, ওই প্রার্থী তাঁর কাছেও টিকিট চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা দেননি। এমনকি তাঁকে পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমি সুযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে সুযোগের অপব্যবহার হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি ব্যারাকপুর কমিশনারেট তৈরির কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করে বর্তমান কিছু পুলিশকর্মীর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এরপরই নিজের দিকে আঙুল তোলেন মমতা। তিনি বলেন, “আমার অনেক ভুল আছে জানেন তো! আমি দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পুষেছি।” এই প্রসঙ্গে তিনি অভিষেক ব্যানার্জীর কথাও উল্লেখ করেন। জানান, অভিষেক তাঁকে প্রায়ই বলেন আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল। মমতার কথায়, “ও ঠিকই বলে। আমার উচিত ছিল সেদিনই ব্যবস্থা নেওয়া।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, দলের ভেতরে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর নিজস্ব আক্ষেপ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “বিপদ খুব দরকার, তবেই বোঝা যায়…” ভালোবাসার আসল পরীক্ষা, বিবাহিত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে অকপট রণজয় বিষ্ণু! শ্যামৌপ্তির সঙ্গে বর্তমানে সমীকরণ কেমন তাঁর?
সবশেষে মমতা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন বিরোধীদের উদ্দেশে। তিনি দাবি করেন, কার কাছে কত টাকা আছে, কোথা থেকে অর্থ এসেছে, সব তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শ্যাম জেলে থাকলেও আরও বেশি ভোটে জিতবে।” তিনি দলের কর্মীদের উপর ভরসা রাখার কথাও বলেন। পুরো বক্তব্যে একদিকে যেমন আত্মসমালোচনার সুর, তেমনই অন্যদিকে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বার্তা এই দুইয়ের মিশেলই জগদ্দলের সভাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।




