প্রথমদিকে কোভিশিল্ড টিকা চার সপ্তাহের ব্যবধানে দেওয়া হচ্ছিল ভারতে। পরে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে বারো সপ্তাহ। এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ব্যবধান বাড়লে মানব শরীরে বেশি কাজ করছে এই টিকা। আর এই তথ্যকেই এবার মান্যতা দিল ভারত সরকার। জানানো হয়েছে, কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান বৃদ্ধি করার বেশি কার্যকারিতার ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণ’ মিলেছিল। তার ভিত্তিতেই দুটি ডোজের ব্যবধান বাড়িয়ে ১২-১৬ সপ্তাহ করা হয়েছে।
গতকাল অর্থাৎ সোমবার থেকে চল্লিশোর্ধ্ব মানুষদের কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের ব্যবধান কমিয়েছে ইংল্যান্ড।
কেন্দ্র দাবি করে জানিয়েছে, টিকাকরণ শুরুর পর প্রথমদিকে ব্রিটেনে ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে করোনা প্রতিষেধক কোভিশিল্ড দেওয়া হত l
কিন্তু তখন ট্রায়ালের তথ্যের ভিত্তিতে চার সপ্তাহের ব্যবধানে টিকা দেওয়া হত ভারতে। পরে দেখা যায় যে আট সপ্তাহের ব্যবধানে মানব শরীরে বেশি কার্যকর হচ্ছে এই টিকা। আর তাই ব্যবধানে বাড়িয়ে চার থেকে আট সপ্তাহ করা হয়। পরে তা আবারও বাড়ানো হয়।
টিকাকরণ নিয়ে ন্যাশনাল টেকনিকাল অ্যাডভাইসরি গ্রুপের ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান এনকে অরোরা ডিডি নিউজে দাবি করে জানিয়েছিলেন, গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে পাবলিক হেলফ ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে দুটি ডোজের ব্যবধান ১২ সপ্তাহের হলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকার কার্যকারিতা ৬৫ থেকে ৮৮ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর সেই কারণেই করোনার ঢেউ থেকে রেহাই পেয়েছিল ইংল্যান্ড। যা আলফা প্রজাতির কারণে হয়েছিল। সেটা ভালো বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারপর ‘মৌলিক বৈজ্ঞানিক কারণ’-এ কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের ব্যবধান বাড়িয়ে ১২-১৬ সপ্তাহ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুটা শিথিলতা দিই। কারণ প্রত্যেকে একেবারে ১৩২ সপ্তাহে আসতে পারবেন না।’
সেই সঙ্গে তিনি জানান, ব্রিটেনে কোভিশিল্ডের সবথেকে বেশি টিকা গ্রহণকারীদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল। তাই একদম প্রথমেই ডোজের ব্যবধান বাড়িয়ে ১২ সপ্তাহ করা হয়নি।





