বিদেশে পড়াশোনা, কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার ভারতীয় ছাত্র প্রতি বছর পাড়ি দেন আমেরিকায়। বিশ্বমানের শিক্ষা ও সুযোগের হাতছানি তাঁদের টানে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কখনও কখনও বিভীষিকায় বদলে যায়। সম্প্রতি এমনই এক নিন্দনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল আমেরিকার নিউ জার্সি। যেখানে এক ভারতীয় ছাত্রের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা রীতিমতো গা শিউরে ওঠার মতো। ঘটনার ভিডিও এবং ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল, যা দেখে ভারতীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, ৭ জুন, নিউ জার্সির বিমানবন্দরে ওই ছাত্রকে হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে অপমানজনকভাবে আটক করা হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে বিমানবন্দরের মাটিতে ফেলে দেয় বলেও অভিযোগ। পুরো ঘটনা সামনে এনেছেন ইন্দো-আমেরিকান সামাজিক উদ্যোক্তা কুণাল জৈন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, তিনি নিজেই এই দৃশ্য দেখেছেন এবং ছাত্রটির কাঁদতে কাঁদতে দেশে ফেরার দৃশ্য দেখে চরম অসহায় বোধ করেছেন।
প্রথমে প্রশ্ন উঠেছিল—কেন এমন ব্যবহার করা হল ওই ছাত্রের সঙ্গে? সূত্রের খবর, ছাত্রটি বিমানবন্দরের মার্কিন আধিকারিকদের কাছে নিজের সফরের যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। এর ফলে তাঁকে অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে সেইদিনের সন্ধ্যার উড়ানে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কুণাল জানান, প্রতিদিনই এমন তিন-চারটি ঘটনা ঘটছে যেখানে ভারতীয়দের হাত-পা বেঁধে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে প্রবাসী ভারতীয় মহলে। কুণাল জৈন নিজের পোস্টে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ট্যাগ করে পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই ছাত্রটির সঙ্গে একই উড়ানে তাঁর আসার কথা ছিল, কিন্তু তাঁকে উঠতে দেওয়া হয়নি। এর আগে বারবার অভিবাসন নীতির নামে ভারতীয়দের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ Voter Card: টাকা নিয়েও ভোটার কার্ড দেননি তৃণমূল নেতা? স্ত্রীর গয়না বিক্রির টাকায় প্রতারিত বৃদ্ধ, তুঙ্গে বিতর্ক!
উল্লেখ্য, আমেরিকায় আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের অভিবাসী বিতাড়নের কঠোর নীতি গ্রহণের কথা বলছেন। ক্ষমতায় থাকাকালীনও তিনি বহু ভারতীয় সহ অভিবাসীদের পায়ে শেকল পরিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। সেই ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছিল। এবার ফের এক ভারতীয় ছাত্রের অপমানজনক হেনস্থার ছবি সামনে আসায় আমেরিকায় ভারতীয় পড়ুয়া এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।





