আবার পিছোল নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক। যদিও এর ফলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির উপর চাপ কমছে না।
কাঠমান্ডু ও নয়াদিল্লি মারফত জানা গিয়েছে যে নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে প্রবল বৃষ্টি, ধ্বস এবং বন্যার কারণে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও গত রাত পর্যন্ত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান পি কে দহল তথা প্রচণ্ড। তবে মাধব নেপাল এবং ঝালনাথ খানালের মতো দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। যদিও এর আগে ওই বৈঠক একাধিকবারই স্থগিত হয়েছে।
এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে নেপালে দূরদর্শন ছাড়া বাকি সমস্ত ভারতীয় খবরের চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধিকারিকরা জানিয়েছেন নেপাল সরকারের তরফে এইরকম কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
ডিসহোম, ডিএসএন, মাই টিভি, মেগা ম্যাক্সের মতো কেবল অপারেটররা নিজেরাই সেই চ্যানেলগুলি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এর পেছনে যে অলি সরকারের হাত রয়েছে সে কথা মোটামুটি ভাবে স্পষ্ট। অলি সরকারের তরফ থেকে একটি বেসরকারি সংবাদ চ্যানেলের একটি ‘অবমাননাকর’ ভিডিও তুলে ধরে নেপালে ভারতবিরোধী ভাবাবেগ উস্কে দেওয়ার আয়োজন শুরু হয়েছে। সরাসরি না হলেও সেই ভিডিয়োর জন্য নয়াদিল্লিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে কাঠমান্ডু।
নেপালে শাসক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রঞ্জন ভট্টরাই সম্প্রতি একটি টুইটে বলেন, “নতুন মানচিত্র প্রকাশের পরই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে নেপালকে নিয়ে যে খবর করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এই মন গড়া এবং ভুয়ো রিপোর্টকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দিচ্ছি। আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে নেপালের সরকার এবং মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে সম্মান জানানোর জন্য ভারতকে আর্জি জানাচ্ছি।”
যদিও নেপালের তথ্যমন্ত্রী যুবরাজ খাতিওয়াড়া অন্য কথা বলছেন। তিনি বলছেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা চাপানোর থেকে সংযম বজায় রেখে ভারতীয় চ্যানেলগুলি ‘সঠিক’ খবর পরিবেশন করছে, সেই বিষয়টি ভালো।
মেগা ম্যাক টিভি কেবল নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি ধ্রুব শর্মা অভিযোগ করেছেন, ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলি নেপালের বিষয়ে অতিরঞ্জিত এবং অভাবনীয় অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিশেষত অলি এবং নেপালে চীনা রাষ্ট্রদূত হোউ ইয়ানকিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংবাদ পরিবেশন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাই তারা ঠিক করেছেন যে এই ভারতীয় নিউজ চ্যানেল গুলির নেপালে সম্প্রচার তারা করবেন না।
এদিকে একজন নেপাল বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন যে, বর্তমানে নেপালের রাজনীতিতে টিকে থাকার সব থেকে সহজ উপায় হল যাবতীয় কাজের জন্য ভারতকে দোষ দেওয়া। প্রত্যেকেই জানেন বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের উপর প্রভাব খাটায় না নয়াদিল্লি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অলির উপর থেকে চাপ কমাতে এটিই সবথেকে কার্যকরী ‘বুলেট’ বলে মন্তব্য করেন ওই বিশেষজ্ঞ।





