আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সম্প্রতি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর শোনা গেছে, যা কেবল সীমান্তবর্তী এলাকা নয়, সমগ্র অঞ্চলকে নড়েচড়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। সাধারণ মানুষও ভয় পাচ্ছে, কারণ এখন পর্যন্ত স্পষ্ট তথ্যের অভাব এবং বিভিন্ন দাবি-বিরোধীয় রিপোর্টের কারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
আফগান তালিবান বাহিনী দাবি করেছে, তাদের সামরিক হামলায় পাকিস্তানি সেনাদের বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হেলমন্দ প্রদেশের সংঘর্ষে অন্তত ৫৮ পাকিস্তানি জওয়ান নিহত হয়েছেন, এবং আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। একই সময়ে আফগান বাহিনী তিনটি পাকিস্তানি ঘাঁটি দখল করেছে এবং সেখানে অস্ত্র-সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ জানান, এই হামলা পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কাবুলে আকাশপথে অভিযান চালানোর জবাবে করা হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের দাবি বিপরীত। তাদের বক্তব্য, আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি সেনারা ১৯টি ঘাঁটি দখল করেছে। সরকারি সংবাদমাধ্যম পিটিভি নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘাঁটিগুলি থেকে হামলা চালানো হচ্ছিল এবং সেখানে আফগান তালিবান সদস্যদের মেরেছে পাকিস্তানি সেনারা। বিশেষ করে মানোজবা ক্যাম্প ব্যাটেলিয়ন, জনদুসর ঘাঁটি, তুর্কমেনজাই ঘাঁটি এবং খরচার দুর্গ ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, তাদের সেনারা সীমান্তে সবসময় প্রস্তুত এবং সজাগ থাকায় হামলার সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কেবল সামরিক অঙ্গনের প্রতিবেদন নয়, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক পরামর্শকরা ইতিমধ্যেই উত্তেজনা প্রশমনের বার্তা দিয়েছেন। তবু সীমান্তের সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন, কারণ সামান্য উত্তেজনাও বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Durgapur Gang r*ape : দুর্গাপুরে মেডিক্যাল ছাত্রী গ*ণধর্ষণ কাণ্ডে তীব্র চাঞ্চল্য! গ্রেফতার ৩, সহপাঠীর দিকেও নজর পুলিশের!
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগান- পাকিস্তান সীমান্তের এই সংঘর্ষ কেবল সামরিক না, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি করছে। দুই দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রভাবিত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত দুই দেশ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়।





