Donald Trump-Asim Munir Meeting: ট্রাম্প-মুনির গোপন বৈঠকে চাঞ্চল্য! ভারতের বিরুদ্ধে কি নতুন ছক?

রাজনৈতিক মহলে হঠাৎ গুঞ্জন তুঙ্গে। যাঁকে নিয়ে ভারতের কূটনীতি বরাবর সন্দেহের চোখে দেখে, সেই পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনির সম্প্রতি আমন্ত্রণ পেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে। আর তা-ও সরাসরি হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজের জন্য! এই অপ্রত্যাশিত আমন্ত্রণ এবং বৈঠকের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—এটা কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি ভারতের বিরুদ্ধে কোনও নতুন ছক আঁকা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে?

ট্রাম্প অবশ্য বিষয়টিকে সাজালেন এক অন্যরকম আলোকে। তাঁর কথায়, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হল আসিম মুনিরকে ধন্যবাদ জানানো। কারণ, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের পরিস্থিতি তিনি নাকি এড়াতে পেরেছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি ওঁকে (আসিম মুনির) আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম শুধু এই কারণে যে, আমি ওঁকে ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলাম যুদ্ধ না করে তা থামানোর জন্য।” তাঁর দাবি, মুনির এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’জনেই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে বৈঠক শুধুই ভারত-পাকিস্তান সীমাবদ্ধ ছিল না। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, ইরান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে মুনিরের সঙ্গে। তাঁর মতে, পাকিস্তান ইরানকে অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় বেশি ভালভাবে চেনে। যদিও পাকিস্তান অতীতে ইরানের পক্ষ নিয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, এইবার কী বিষয়ে একমত হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। এই অন্ধকারেই ঘোরাফেরা করছে নানা আশঙ্কা।

তবে শুধু মুনির নয়, ট্রাম্প প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। বলেছেন, “মোদী অসাধারণ মানুষ। গতকাল রাতেও ওঁর সঙ্গে কথা হয়েছে।” এমনকি ভারত-আমেরিকার মধ্যে শীঘ্রই বাণিজ্য চুক্তির কথাও জানান ট্রাম্প। এই বক্তব্য যেন ভারতকে কিছুটা সান্ত্বনা দিলেও, পাশাপাশি ট্রাম্পের পাকিস্তান-মুনির ঘনিষ্ঠতা ঘিরে সন্দেহও জিইয়ে রাখে। কারণ, ভারত ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, সংঘর্ষ থামানোর সিদ্ধান্ত একান্তই পাকিস্তানের অনুরোধে হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Weather update : বর্ষার দাপট শুরু! ৫ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, ঘণ্টায় ৪০ কিমি বেগে ঝড়, জলমগ্ন হতে পারে কলকাতা!

এই প্রথম কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি পাক সেনাপ্রধানকে হোয়াইট হাউসে ভোজে আমন্ত্রণ জানালেন। সাম্প্রতিক সময়ের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে এই সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যেখানে ট্রাম্প নিজে দাবি করেছেন, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামাতে তাঁরই ভূমিকা রয়েছে। তাহলে কি এই বৈঠকের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বৃহত্তর কূটনৈতিক খেলা? ভারতের নিরাপত্তা দফতর ও কূটনৈতিক মহলে এখন সেই নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles