বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজার এক অদ্ভুত টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই কখনও জ্বালানির দাম, কখনও আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ওঠা-নামা আমাদের প্রত্যেকের জীবনকে প্রভাবিত করছে। এক দেশের সিদ্ধান্ত, অন্য দেশের অর্থনীতিকে কেমনভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে — তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আমরা বারবার দেখেছি। আর ঠিক এমন এক পরিস্থিতিতেই ফের আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে শুল্ক বৃদ্ধি বিতর্ক।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এক দেশ যখন বড়সড় কোনও পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যায়, তখন তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বের ওপর। বিশেষ করে যদি সেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকেন বিশ্বের সবথেকে ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, তাহলে তো কথাই নেই! আর এবার সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভারত-সহ আরও দুই দেশ। কারণ, হাতে আর মাত্র চার দিন। তারপরই কার্যকর হতে পারে নতুন শুল্ক নীতি। কিন্তু এই চার দিনেই বদলে যেতে পারে খেলা!
আসলে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছিলেন, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে চলেছে ওয়াশিংটন। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে। ট্রাম্পের ঘোষণায় স্পষ্ট, ভারতের পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ, ইজ়রায়েলের পণ্যের উপর ১৭ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের পণ্যের উপর ৪৬ শতাংশ বাড়তি শুল্ক বসতে চলেছে। তবে এখানেই শেষ নয়। পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। কারণ, এই তিন দেশের সঙ্গে চুপিসারে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প নিজে।
এই আলোচনার কথা প্রথম সামনে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত, ইজ়রায়েল এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের স্তরে স্তরে কথাবার্তা চলছে। বিশেষ করে ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভিয়েতনাম যদি সমঝোতায় রাজি হয়, তাহলে তারা মার্কিন পণ্যের ওপর সব ধরনের শুল্ক তুলে দিতেও প্রস্তুত। এমনকি, তিনি জানিয়েছেন ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি তো ল্যামের সঙ্গে ইতিমধ্যেই তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
তবে শুধুমাত্র ভিয়েতনাম নয়, ভারতের সঙ্গেও সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে খবর। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৯ এপ্রিলের আগেই যদি এই আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল বের হয়, তাহলে ভারতের ওপর নির্ধারিত ২৬ শতাংশ শুল্কও কমে যেতে পারে। তবে এই আলোচনা সফল হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ, অন্যদিকে চিন ইতিমধ্যেই আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। ট্রাম্প চিনের পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসানোর পর, চিনও আমেরিকার পণ্যের উপর একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে। বন্ধ করেছে আমেরিকার একাধিক সংস্থার ব্যবসা। পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে কানাডার সিদ্ধান্ত। আমেরিকার গাড়ির উপর শুল্ক বসানোর কথা জানিয়েছে কানাডা সরকারও। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক অদ্ভুত উত্তেজনার পরিবেশ।
আরও পড়ুনঃ Ssc scam : ‘ওরা মামলা না করলে আমাদের চাকরি থাকত!’ — আদালতের রায়ে পথে ২৬ হাজার শিক্ষক, এবার রাগ-ক্ষোভ মামলাকারীদের উপরই!
এখন দেখার, হাতে থাকা এই চার দিনই ঠিক করবে — আদৌ ভারত-সহ তিন দেশের সঙ্গে ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে সমঝোতা হয় কিনা, নাকি ৯ এপ্রিলের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুরু হবে এক নতুন যুদ্ধ।





