রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে যেন এক দুঃস্বপ্নের দিন। হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা, যাঁরা গত কয়েক বছর ধরে ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে পড়াতেন, আজ তাঁরা নেমে এসেছেন রাস্তায়। চোখে-মুখে ভয়, অনিশ্চয়তা, ক্ষোভ আর হতাশা। কেউ কাঁদছেন, কেউ বিচার চাইছেন, কেউ আবার নিজেকে অসহায় মনে করছেন।
বাস্তবের ছবি আরও নির্মম। গত কয়েক বছর ধরে অনেকেই স্থায়ী চাকরির স্বপ্নে বুক বেঁধেছিলেন। কেউ পরিবারের একমাত্র রোজগেরে, কারও ঘাড়ে ঋণের বোঝা, কেউ আবার সন্তান-সংসার সামলে স্কুলের ক্লাসে পড়াতেন। কিন্তু হঠাৎ এক রায় বদলে দিল সবকিছু। এক মুহূর্তে চাকরি চলে গেল ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের।
আসলে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন একাংশ চাকরিপ্রার্থী। কেউ বলেছিলেন, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি। কেউ আবার দেখেছিলেন, কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা চাকরি পেয়ে গিয়েছেন অজানা পথে। সেই রাগ, সেই ক্ষোভ নিয়েই মামলা করেছিলেন নন্দীগ্রামের লক্ষ্মী তুঙ্গা, হরিপালের নাসরিন খাতুনের মতো বহু বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী।
এবার সেই মামলার জেরেই সুপ্রিম কোর্টের রায়। বাতিল ২০১৬-র সম্পূর্ণ প্যানেল। ফলে এক ধাক্কায় চাকরি গেল প্রায় ২৫,৭৫২ জনের। আর এখান থেকেই শুরু নতুন বিতর্ক। রাস্তায় নামা চাকরি হারানো শিক্ষকদের অনেকের অভিযোগ — “ওই মামলাকারীরা না গেলে, আমাদের আজ এই দশা হত না!” কেউ কেউ সরাসরি কটাক্ষ করছেন, কেউ আবার সামাজিক বয়কটের হুমকি দিচ্ছেন। তবে মামলাকারীরাও নির্বাক নন। লক্ষ্মী তুঙ্গা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি চাকরি পাওয়ার জন্য লড়াই করেছি। অন্যের চাকরি কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়।” একই কথা নাসরিন খাতুনেরও — “যাঁরা আজ রাস্তায় পড়েছেন, তাঁরাও তো তখন আমাদের দুর্দশা বুঝতে চাননি। আমরাও তো দিনের পর দিন পথে লড়েছি। আমাদের লড়াইটা ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে।”
আরও পড়ুনঃ Weather update: আর মাত্র কয়েকঘণ্টা অপেক্ষা! রবিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির দাপট, বজ্রপাত-শিলাবৃষ্টি কোন কোন জেলায়?
শেষ পর্যন্ত, আদালতের রায় সবাইকে মেনে নিতেই হবে। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে এত বড় এক সিদ্ধান্তে নতুন করে তৈরি হচ্ছে উত্তেজনা, অসন্তোষ এবং মানুষের মধ্যে বিভাজন। সামনে নিয়োগ হবে কি না, হলে কবে — এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে প্রত্যেকের মনে। আর সেই উত্তরই হয়তো ঠিক করবে আগামী দিনে কারা স্কুলের ক্লাসে ফিরে যেতে পারবেন, আর কারা বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াবেন।





