Pakistan Terrorism : ‘ওই জঘন্য গোষ্ঠীকে সরান’, সাফ বার্তা পাকিস্তানকে আমেরিকার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়েও উঠল প্রশ্ন!

বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর চর্চা চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংখ্যালঘু নিপীড়ন— একাধিক ইস্যুতে বিশ্বমঞ্চে চাপে পড়েছে ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে পাক প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক আমেরিকা সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। তবে এই সফরে যে বার্তা তারা পেয়েছে, তা সহজভাবে মেনে নেওয়া পাকিস্তানের পক্ষে কঠিন হবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। কারণ, এবার সরাসরি সন্ত্রাসবাদ দমনে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ব্র্যাড শেরম্যান।

পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় সন্ত্রাসবাদ দমনের বার্তা দিয়েছেন ব্র্যাড শেরম্যান। তিনি পাক মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই ‘জঘন্য গোষ্ঠী’কে পাক ভূখণ্ড থেকে সরাতে বলেও জানান। শেরম্যান পরে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘২০০২ সালে এই গোষ্ঠীই আমেরিকান সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্লকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। এমন সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া পাকিস্তানের কর্তব্য।’’

এই আলোচনায় শুধু সন্ত্রাসবাদ নয়, পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেরম্যান। তিনি লেখেন, পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান এবং অহমদিয়া মুসলিমদের যেন ধর্মাচরণের স্বাধীনতা দেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন সংখ্যালঘুরা, সে বিষয়েও পাক সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। পাশাপাশি সিন্ধ প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেরম্যান। জানান, বহু বছর ধরে সেখানে রাজনৈতিক দমনপীড়নের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আট হাজারের বেশি নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে— যার মধ্যে গুম করে দেওয়া, বিচার ছাড়াই হত্যা ইত্যাদি গুরুতর অপরাধ রয়েছে।

এই সফরে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও আমেরিকার কানে তুলেছে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, ভারত জল সরবরাহ বন্ধ করে দক্ষিণ এশিয়াকে পরমাণু যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অভিযোগ করেন প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টো জ়ারদারি। তিনি ভারতীয় পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ বলেও আখ্যা দেন। প্রসঙ্গত, এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত এই চুক্তি স্থগিত করে। পাকিস্তানের দাবি, এতে তাদের ২৪ কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ Kunal Ghosh : ‘‘কেন শাস্তি দেওয়া হবে না?’’ কলকাতা হাই কোর্টের কড়া প্রশ্নে বিপাকে কুণাল ঘোষ, কী জানালো হাই কোর্ট?

এই আবহে প্রায় একই সময়ে শশী তারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলও পৌঁছেছে ওয়াশিংটনে। তাদের লক্ষ্য, পহেলগাঁও হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর তথ্য আমেরিকার সামনে তুলে ধরা। আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ‘দ্বিমুখী নীতি’ এবং সন্ত্রাসবাদে মদতদানের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনায় তারা নেমেছে বলে সূত্রের খবর। ফলে দুই দেশের মধ্যে এই সফর ঘিরে কূটনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles