Muhammad Yunus UK Visit: ‘গো ব্যাক’ স্লোগানে কোণঠাসা ইউনূস! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বাতিল, পথে তীব্র প্রতিবাদ!

চার দিনের ব্রিটেন সফরে গিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। কিন্তু সফরের শুরুতেই লন্ডনের মাটিতে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক ও প্রতিবাদ। ইউনূসের আগমন উপলক্ষে হিথরো বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তাঁর হোটেল চত্বরে জড়ো হয় শত শত বিক্ষোভকারী। লন্ডনে বসবাসকারী আওয়ামী লিগের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভে শোনা যায় ‘গো ব্যাক ইউনূস’ স্লোগান। এমনকী ছোড়া হয় ডিম ও জুতো! এই ঘটনাই তাঁর সফরকে ঘিরে বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজনার পারদ।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে ধরা হয়েছিল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সঙ্গে ইউনূসের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ। কিন্তু সেই প্রত্যাশা কার্যত ধূলিসাৎ। ব্রিটেনের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টার্মারের এখন ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনও পরিকল্পনা নেই। এই তথ্য স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং ইউনূসও। তিনি এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি না বললেও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে ব্রিটেন এখন তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নয়।

হাসিনা সরকারের আমলে ব্রিটেনে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি নিয়ে স্টার্মারের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করেছিলেন ইউনূস। কিন্তু ব্রিটিশ প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই মুহূর্তে তারা বাংলাদেশ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী নয়। অর্থাৎ, পাচার হওয়া টাকা ফেরতের বিষয়ে সাহায্য চাওয়া হলেও, তা নিয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি। যদিও এই বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি ইউনূস।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইউনূসের হোটেলের বাইরে কালো পতাকা, পোস্টার ও ব্যানার হাতে বিক্ষোভকারীদের ভিড় দেখা যায়। আওয়ামী লিগের ব্রিটেন শাখার কর্মীদের দাবি, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে মৌলবাদ ও হিংসার বাড়বাড়ন্ত ঘটেছে। তাঁকে দোষী করে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানুষ খুন হয়েছেন তাঁর প্রশাসনের সময়। এমনকী, হিন্দু পুরোহিত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিও তোলা হয় ব্যানারে। ইউনূসের প্রেস সেক্রেটারিও বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়েন।

আরও পড়ুনঃ PRIMARY RECRUITMENT CASE : ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় উত্তাল হাইকোর্ট, নিয়োগে এজেন্সি-ইন্টারভিউ বোর্ড নিয়ে চাপে রাজ্য সরকার!

এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লিগের ব্রিটেন শাখার তরফে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন ইউনূসের প্রশাসনকে কোনওরকম স্বীকৃতি না দেয়। চিঠিতে উল্লেখ, বাংলাদেশ এখন রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, মহিলাদের উপর নির্যাতন বেড়েছে। এই অবস্থায় ইউনূসকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনও রকম সাহায্য বা বৈধতা দেওয়া উচিত নয়।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles