২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় ফের চাপে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) কলকাতা হাইকোর্টে ফের শুনানি হয়। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ একাধিক প্রশ্ন তোলে, যার উত্তর রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে দিতে হবে আগামী শুনানিতে। তবে এবার শুধু নিয়োগ নয়, কাঠগড়ায় উঠে এলেন তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এলো তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন।
বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন জানতে চায়, নিয়োগে কোনও এজেন্সিকে বেআইনিভাবে যুক্ত করা হয়েছিল কি না, এবং ইন্টারভিউ বোর্ডের বাইরে সিলেকশন কমিটির কার্যকলাপ কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল? রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পাল্টা অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর দাবি, বিচারপতি মামলাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন, যা বিচারপতির এক্তিয়ারের বাইরে।
শুনানিতে উঠে আসে, ইন্টারভিউ এবং অ্যাপটিটিউড টেস্ট একইদিনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখনও সংশয় থেকেই যায়—ইন্টারভিউ বোর্ড পুরোপুরি নিয়ম মেনে কাজ করেছে কি না? আদালতের প্রশ্ন, রুলে যেহেতু ইন্টারভিউ বোর্ডকে বাতিল করা হয়নি, তবে সেটা কি মানা হয়েছিল? এ প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর এজি দিতে পারেননি। পাশাপাশি আদালত জানতে চায়, প্যানেল প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। এজি জানান, হ্যাঁ, প্যানেল প্রকাশ করা হয়েছিল।
তৎকালীন বিচারপতি যেভাবে প্রত্যেক জেলার প্রার্থীদের ডেকে নিয়ে নিজে জেরা করেছিলেন, তা আদৌ বিচারপতির এক্তিয়ারে পড়ে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে রাজ্য। উল্লেখ করা হয় ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর এবং ২০২৩ সালের ১১ মে-র দুটি শুনানির প্রসঙ্গ—যেখানে রাজ্যের দাবি, মামলার শুনানিতে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়নি, এবং ইন্টারভিউ বোর্ড নিজের বক্তব্য পেশ করতে পারেনি।
আরও পড়ুনঃ Ahmedabad Plane Crash: মাত্র ১০ মিনিট দেরি, আর তাতেই নতুন জীবন! আমদাবাদে ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলেন প্রবাসী!
আগামী ২৩ জুন থেকে ফের শুরু হবে মামলার শুনানি। তখন রাজ্য সরকার ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে হাইকোর্টের সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আদালত চায়, এই গুরুতর নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে প্রকৃত তথ্য সামনে আসুক। পাশাপাশি তৎকালীন বিচারপতির ভূমিকা নিয়েও যে এবার নতুন করে আইনি বিশ্লেষণ হবে, তা স্পষ্ট বৃহস্পতিবারের শুনানি থেকেই। সব মিলিয়ে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় ফের এক দফা উত্তেজনার মুখে রাজ্য প্রশাসন।





