থার্মোকলের মত ভাঙলো বাঁধ! হিমবাহ ভেঙে ব্যাপক তুষারধস উত্তরাখণ্ডে, নিখোঁজ ১৫০,  ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

আজ সকালে ২০১৩ সালের মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও হরপা বানের স্মৃতি ফিরল উত্তরাখণ্ডে। সেই ঘটনায় প্রায় ছ’হাজার মানুষ মারা যান l

আর আজ ফের হিমবাহ ভেঙে ব্যাপক তুষারধস নামল উত্তরাখণ্ডের চমোলি জেলায়। এর জেরে আজ  সকালে জোশীমঠের কাছে ধৌলিগঙ্গার জলস্তর তীব্র আকার বেড়ে যায়। তীব্র জলোচ্ছ্বাসে ভাঙতে থাকে বাঁধ। ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে  পরস্পর থাকা গ্রামগুলির। ওই এলাকায় বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করছিল। ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাঁদের। প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ঋষিগঙ্গা পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পে ঘটনা ঘটার সময় ১৫০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাঁরা সবাই নিখোঁজ। প্রবল জলের স্রোতে তাঁরা ভেসে গিয়েছেন বলেই আশঙ্কা। তবে সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে এই সংখ্যা আর‌ও বাড়তে পারে। কারণ জল যে পথে প্রবাহিত হচ্ছে সেই পথেই রয়েছে একাধিক গ্রাম।

রেইনি গ্রামের তপোবন এলাকায় ঘটনাস্থলের ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বাঁধ ভাঙা জল নদীর দু’পাশের বাড়ি ঘর ভেঙে তীব্র গতিতে এগোচ্ছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ভারত-তিব্বত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অর্থাৎ ITBP ২০০ জনের উদ্ধারকারী দল। চামোলি থেকে ঋষিকেশ যাওয়ার রাস্তায় ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। ইতিমধ্যেই গ্রামবাসীদের সতর্ক করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। ধসের কারণে ধৌলিগঙ্গার দু’পাশের গ্রাম খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তপোবনের কাছে নন্দাদেবী হিমবাহে ফাটল ধরায় ঋষিগঙ্গা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমাণ।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত রবিবার দুপুরেই ধসে বিপর্যস্ত এলাকাগুলির তথ্য জানার জন্য সাহায্য চাওয়ার নম্বর (হেল্পলাইন) প্রকাশ করেছেন। একটি টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘যদি ঘটনাস্থলে কেউ আটকে পড়ে থাকেন তবে তাঁরা ১০৭০ অথবা ৯৫৫৭৪৪৪৪৮৬ নম্বরে যোগাযোগ করুন’। এছাড়া কোনও পুরনো ভিডিয়োর ছবি দেখে গুজব ছড়ানোর ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে বলেছেন রাওয়াত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তিনি পুরো বিষয়টির উপর নজর রাখছেন। মোাদী লেখেন, ‘গোটা দেশ উত্তরাখণ্ডের পাশে রয়েছে। উত্তরাখণ্ডের বিপন্নদের জন্য প্রার্থনা করছে দেশবাসী। আমি নিজে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। উদ্ধার কাজের প্রতি মুহূর্তের খবর রাখছি আমি’।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইট করে জানিয়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ইতিমধ্যেই জোাশী মঠে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এই সঙ্কট কালে দেবভূমিকে সবরকম সাহায্য করা হবে। পরে আরও একটি টুইট করে শাহ জানান, ‘বিপর্যয় বাহিনীর আরও কয়েকটি দলকে দিল্লি থেকে বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঘটনাস্থলের কাছে’।

শুধু উত্তরাখণ্ড‌ই নয়, উত্তরপ্রদেশের গঙ্গার দু’পারেও জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। সেখানেও জল বিপদসীমার উপর দিয়ে ব‌ইছে। এই মুহূর্তে উত্তরাখান্ড এবং উত্তরপ্রদেশে বেড়াতে গেছেন বহু পর্যটক। ঘটনায় আটকে পড়েছেন তাঁরা। শ্রীনগর ও ঋষিকেশ বাঁধের লাগোয়া অঞ্চল খালি করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৩ সালে এরকমই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও হরপা বানে উত্তরাখণ্ডে প্রায় ছ’হাজার মানুষ মারা যান। রবিবার সকালের ঘটনা সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ফিরিয়ে আনল।

RELATED Articles