বঙ্গ রাজনীতিতে এখন দলবদলের ট্রেন্ড চলছে। আজ কেউ সবুজে তো কাল কেউ গেরুয়ায়। টলিউড এবং রাজনীতি এখন মিলেমিশে একাকার। কৌশিক রায়, রুদ্রনীল ঘোষ এরা যখন গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন তখনই সৌরভ দাস, কৌশানি, দীপঙ্কর দে, টালিগঞ্জের পরিচিত মুখ ‘বাহামণি’ (রনিতা দাস) ও ‘ঝিলিক’রা (শ্রীতমা ভট্টাচার্য) যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। তবে শিল্পীদের দলে টানার বিষয়ে বিজেপির থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল।
আর এই পরিস্থিতিতে শিল্পীদের তৃণমূলে যোগদানকে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, কাজ হারানোর ভয়েই শিল্পীরা রাজ্যের শাসক দলে যোগ দিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, শনিবারও সাংসদ দোলা সেনের হাত ধরে তৃণমূল ভবনে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন টালিগঞ্জের পরিচিত মুখ ‘বাহামণি’ ও ‘ঝিলিক’-সহ ৪ জন। শুক্রবারও একই ভাবে ব্রাত্য বসুর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন টালিগঞ্জের একঝাঁক শিল্পী। যদিও ব্যাপারটাকে বেশি গুরুত্ব দিতে নরাজ দিলীপ ঘোষ।
এদিন নিজের বক্তব্যে বিজেপির প্রদেশ অধ্যক্ষ বলেন, ‘ওই শিল্পীদের ভয় দেখিয়ে কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছে। কাজ হারানোর ভয়ে ওরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন।’ সঙ্গে তৃণমূল নেতা অরূপ রায়কে তাঁর পরামর্শ, ‘নিজের দলের লোকেদের ধরে রাখুন। বিজেপি কর্মীদের এত দুর্দিন হয়নি যে তৃণমূলে যোগ দিতে হবে।’ দিলীপবাবুর দাবি, নিজেদের পুরনো কর্মীদের তৃণমূলেই যোগদান করিয়ে মানুষে চোখে ধুলো দিচ্ছে শাসকদল।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, অভিনেতা অভিনেত্রীদের রাজনীতিতে যোগদান কোনও নতুন ঘটনা নয়। আর এই ট্রেন্ড বাংলায় এসেছে মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। সিঙুর-নন্দীগ্রাম পর্ব থেকেই রাজ্যের শিল্পীদের প্রথম পছন্দ তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়ে সাংসদ হয়েছেন তাপস পাল, শতাব্দী রায়। বিধায়ক হয়েছেন দেবশ্রী রায়। পরে দেব, মিমি, নুসরতের মতো উঠতিদেরও সংসদে পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও তাঁর নজরে রয়েছে এক ঝাঁক তারকা।





