এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই সমস্যাকে দূর করতে এবার এগিয়ে এলো রেল কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় রেলের তরফে বলা হয়েছে, রেল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ৩০০টি বিশেষ ট্রেন চালাতে সক্ষম। তাদের একমাত্র লক্ষ্য যাতে আগামী তিন-চারদিনের মধ্যেই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।
রবিবার একটি টুইট করে রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে গত ছ’দিন ধরে কম সময়ের নোটিশেই প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টি করে ট্রেন চালাতে প্রস্তুত রেল।’
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যে রাজ্যে লকডাউনের আগে পরিযায়ী শ্রমিকরা আটকে পড়েছেন, সেই রাজ্য থেকে তাদের নিজের রাজ্যের মধ্যে, সেই দুই রাজ্যের সম্মতির পরই ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করেছে রেল। সেইমতো রবিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩৬৬ টি ‘শ্রমিক স্পেশ্যাল’ ট্রেন ছেড়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তার মধ্যে ২৮৭ টি ট্রেন নিজের গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে। বাকি ট্রেনগুলি এখনো তাদের যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে এবং শীঘ্রই তারা নিজের গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে খবর পাওয়া গেছে। এখনও অবধি ১২৭ টি ট্রেন উত্তরপ্রদেশে ঢুকে গেছে। এছাড়া ৮৭ টি ‘শ্রমিক স্পেশ্যাল’ ট্রেন বিহারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।এই বিশেষ ট্রেনগুলি করে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের প্রায় ৮০,০০০-জন পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরে গেছেন। এছাড়া মধ্যপ্রদেশে ২৪ টি, ওড়িশায় ২০ টি এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬ টি বিশেষ ট্রেন এসে পৌঁছেছে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২টি ট্রেনই এসে পৌঁছেছে। তা নিয়ে শনিবারই রেল ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। এরপর রবিবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন রেলমন্ত্রী। নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তিনি বলেন, ‘সব রাজ্যই তাদের রাজ্যবাসীদের ফিরিয়ে আনতে তৎপর।ভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ীদের উদ্ধার করে নিজের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করছি আমি। যাতে আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে আমরা সবাই তাঁদের বাড়ি সমস্ত মানুষকে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারি।’





