মৃত্যু কীভাবে কাছে ঘেঁষে আসে, তা যেন হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে সে! শরীর নিস্তেজ, মুখে যন্ত্রণা, কিন্তু মৃত্যুর আগেও চোখে ভয়। নাক দিয়ে অক্সিজেন যাচ্ছে, হাসপাতালের বেডে বসিয়ে রাখার জন্য কাউকে পিছন থেকে ধরে রাখতে হচ্ছে। এক পাশে কেউ কাঁদছে, অন্য পাশে কেউ দোয়া করছে। ফিল্ম নয়, বাস্তব। এই দৃশ্য উঠে এসেছে একটি ভাইরাল ভিডিয়োতে, যার কেন্দ্রে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি আব্দুল আজ়িজ়।
এক সময় যিনি লস্করের ‘মানি ম্যান’ বলে পরিচিত ছিলেন, তাঁর মৃত্যু ঘিরে এই ভিডিয়োই এখন ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে এক বড় সাফল্যের বার্তা। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা ‘এই সময়’ যাচাই করেনি, তবে জানা যাচ্ছে, বাহওয়ালপুরের এক হাসপাতালে মৃত্যুর আগমুহূর্তে ওই ভিডিওটি তোলা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন জৈশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজ়হারের ভাই আব্দুর রউফ এবং লস্করেরই অন্য এক শীর্ষ কম্যান্ডার সইফুল্লা কাসুরি।
গত ৬ মে গভীর রাতে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সে সময়ই মারাত্মক জখম হন আজ়িজ়। যদিও সেই খবর এতদিন লস্করের তরফে গোপন রাখা হয়েছিল। মৃত্যুর পর বাহওয়ালপুরেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। গোয়েন্দাদের দাবি, লস্করের কাঠামোগত বদলের মধ্যেই এমন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যু তাদের আরও দুর্বল করে দেবে।
আজ়িজ় শুধু একজন শীর্ষ কম্যান্ডার ছিলেন না, ছিলেন গোটা লস্করের ফান্ডিংয়ের মূল কান্ডারি। গোপন সূত্রে খবর, আমেরিকা, ইউরোপ থেকে শুরু করে উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা ধনী পাকিস্তানিদের কাছ থেকে টাকা তুলে আনতেন তিনি। ‘ফালাহ-এ-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশন’ ও পরে ‘খিদমত-এ-খাল্ক’-এর মাধ্যমে চলে সেই অর্থ সংগ্রহ। আজ়িজ়ের মৃত্যু লস্করের অর্থনৈতিক জোগানেও বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা।
আরও পড়ুনঃ সকাল সকাল বৃষ্টি কলকাতায়! দক্ষিণবঙ্গের অনেক জেলায় সতর্কতা, জানুন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে, ২৬/১১ মুম্বই হামলার সময়েও ফান্ডিংয়ের অন্যতম মুখ ছিল আজ়িজ়। সংসদ হামলাতেও যুক্ত ছিল সে। সাম্প্রতিক সময়ে লস্করের অন্য দুই ফান্ডিং অ্যাক্টিভিস্ট আবু কতাল ও রাজ়াউল্লাহ নিহত হওয়ার পর ফের সরাসরি মাঠে নামতে হয় আজ়িজ়কে। সইফুল্লার মতো সহযোগীদের গড়ে তোলার দায়িত্বও ছিল তাঁর উপর। একের পর এক এই গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যুই ভারতের কৌশলগত জয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





