India Bangladesh Border Clash: ‘ভারত আমাদের সীমান্তে খুন করছে, মুসলিমদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে’ — ভারতকে সরাসরি আক্রমণ নাহিদ ইসলামের!

বাংলাদেশে একাধিক রাজনৈতিক মোড় ঘুরছে দ্রুত, যার ঢেউ এসে লাগছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর পরিস্থিতি আরও ঘোলা হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে উগ্র রাজনীতির রং চড়ছে। এমন আবহেই এবার সরাসরি ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চর্চার কেন্দ্রে এলেন বাংলাদেশের এনসিপি (NCP) নেতা নাহিদ ইসলাম। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, এটা কি কেবল বাংলাদেশ-centric রাজনৈতিক লড়াই, নাকি এটির ঢেউ ছড়াতে চলেছে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায়?

‘বাচ্চা পার্টি’ নামেই পরিচিত ন্যাশনাল চেঞ্জ পার্টির (NCP) প্রধান আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের এই লড়াইটা শুধুমাত্র বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়। এটা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার লড়াই।” তাঁর অভিযোগ, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হচ্ছে এবং ভারতীয় মুসলিমদের বাংলাদেশি বলে ‘পুশ ইন’ করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন তিনি। তাঁর এমন বক্তব্যে ভারতের রাজনৈতিক মহল এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চোরাপথে চলা অনুপ্রবেশ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, কলকাতার মতো শহরে বহু বাংলাদেশি বাস করেন, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখানে বিয়েও করেছেন। ভারতের দাবি, এইসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আবার বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে একাংশ রাজনৈতিক নেতারা এটিকেই বলছেন ‘পুশ ইন’। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে এই বিতর্ক ফের ঘনীভূত হচ্ছে।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই সীমান্তে একাধিক বার উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কখনও সীমান্তে বিজিবি (BGB) ও বিএসএফ (BSF) মুখোমুখি, তো কখনও সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কট্টরপন্থীদের সক্রিয়তা বেড়েছে। তারই অংশ হিসেবে এনসিপি নিজেদের রাজনৈতিক স্থান তৈরি করতে চাইছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুনঃ Terror Funding Collapse: হাফিজ়ের প্রিয় ‘মানি ম্যান’-এর মৃত্যু কি লস্করের পতনের শুরু? গোয়েন্দাদের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য!

নাহিদ ইসলামের দাবি, তাঁরা এখনো ‘আকাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ’ পাননি। সেই কারণেই মুজিববাদ এবং ‘ফ্যাসিবাদ’-এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন তাঁরা। তবে ভারত-বিরোধী মন্তব্য যে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা বলছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য শুধুই আবেগপ্রবণ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক স্থিতাবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles